সিসি নিউজ ।।দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শুঁটকি আড়ত নীলফামারীর সৈয়দপুরে বেচাকেনায় মন্দাভাব বিরাজ করছে। ফলে লোকসানে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। অনেকে পুঁজি হারিয়ে এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করতে পেরে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
করোনাকালে ব্যবসায়ীদের লোকসানের পর টানা পাঁচ দিনের শৈত্যপ্রবাহে সৈয়দপুর শুটকি আড়তের ব্যবসায়ীরা আবারো পড়েছে লোকসানের মুখে। শীতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকারী ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আড়তে না আসায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিক্রি না হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের শুটকিগুলো বিবর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সূত্র মতে, ১৯৮৩ সালে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নিয়ামতপুর এলাকায় গড়ে উঠে এ শুঁটকি মাছের আড়ত। প্রথমে কয়েকজন আড়তদার এই ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে আড়তদার রয়েছে ১৫ জন। এর মধ্যে ছয় জন আড়তদারের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে পুঁজির অভাবে। স্বাভাবিক সময়ে ব্যবসায়ী ও খুচরা ক্রেতা মিলে প্রতিদিন ১৫-১৬ হাজার লোকের আগমন ঘটতো। এ সময় প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে কোটি টাকার শুঁটকি মাছ বেচাকেনা হতো। গত দুই সপ্তাহ থেকে ক্রেতাদের ভিড় কমেছে। ফলে প্রতিদিন গড়ে ৫-১০ লাখ টাকার বেচাকেনা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আড়তে শুঁটকি আসে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী এবং পাবনা থেকে। এর পাশাপাশি ভারতীয় শুঁটকি মাছ আসে বৈধভাবে হিলি ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে। সামুদ্রিক ও মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি মাছও বিক্রি হয়ে থাকে আড়তে। এখানকার বেশিরভাগ আড়তদার রয়েছেন পাবনা, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলার। স্থানীয় ব্যবসায়ী তেমন একটা নেই বললেই চলে।
লিংকন এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার রোস্তম আলী জানান, গত বুধবার সারাদিন মাত্র ৩ হাজার টাকার শুটকি বিক্রি হয়েছে। যা আগে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকার শুটকি বিক্রি হতো। শীতকালে ব্যবসা কম হয় কিন্তু এমন ব্যবসায়িক ধস দীর্ঘ দশ বছরে হয়নি। তাছাড়া প্রতি কেজি শুটকিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির শিকার হয়েছে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থেকে আসা শুটকি ব্যবসায়ী আজাহার আলী জানান, প্রচন্ড শীতে ক্রেতারা বাড়ির বাইরে বের হয়না। তাছাড়া শীতকালিন সবজি বাজারে প্রচুর আমদানি থাকায় শুটকি বিক্রি কম হয়। ঘন কুয়াশার কারণে রোদ না থাকায় বিশেষ করে সামুদ্রিক শুটকি বিবর্ণ ও গন্ধ হয়। ক্রেতারা তা দেখে কিনতে চায় না। তাই সামান্য শুটকি নিয়ে ফিরে যাচ্ছি।
নিয়ামতপুর শুটকি মাছ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি বাছেদ আলী বাখার জানান, ব্যবসা একেবারে মন্দা। পাইকাররাও আসছে না। তার ওপর ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যাংকের চাপ। টাকা অনাদায়ে মামলার হুমকি। এসব কারণে অনেক ব্যবসায়ী শুটকি ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে এখানকার সব আড়তদারই ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছেন। লোকজনের আনাগোনা কমে যাওয়ায় শুঁটকি ব্যবসা আগের মতো চলছে না।
নীলফামারী জেলা মৎস্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, দেশে শুটকি সংরক্ষনের জন্য সরকারের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। যা দেশের মৎস্যজাত আমিষের চাহিদা পূরণে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি রফতানি আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।