সিসি নিউজ ।। মাঘের শেষে অসময়ের বৃষ্টিতে সরিষা চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খেতে পানি জমে থাকা ও বাতাসে মাটির সাথে সরিষার গাছ নুয়ে পড়ায় চিন্তায় পড়েছে চাষীরা। তাই গাছ পচে যাওয়ার আগেই সরিষার দানা অপরিপক্ক অবস্থায় মাঠ থেকে তুলে নিচ্ছে চাষীরা। তবে কৃষি বিভাগের মতে প্রায় খেতের সরিষা দানা হয়ে পরিপক্ক হয়েছে। তাই তেমন ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
গত শুক্র ও শনিবার নীলফামারী জেলায় মাঝারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় জেলায় সর্বোচ্চ ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন। তিনি জানান, এ সময় উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ১৪ থেকে ১৬ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। এরপর দুইদিন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল এ অঞ্চল।
ডিমলা সদর ইউনিয়নের সরিষা চাষী সেলিম আহমেদ জানান, এবারে তিনি ৯০ শতাংশ জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। বৃষ্টির কারণে সরিষার গাছগুলো কেতে নুয়ে পড়েছে। জমিতে পানি জমে থাকায় পচন ধরার আগেই বাধ্য হয়ে অপরিপক্ক সরিষা কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে। এতে বিঘা প্রতি এক মন ফলন কম হতে পারে।
ডোমারের বোড়াগাড়ী এলাকার সরিষা চাষী এমদাদুল হক জানান, খেতের সরিষা পাকতে আরো কিছুদিন সময় লাগত। কিন্তু অসময়ের বৃষ্টিতে সরিষা খেতে পানি জমে গেছে। তাই দ্রুত ঘরে তুলতে হচ্ছে। ফলে লাভ দূরের কথা উল্টো লোকসান গুনতে হবে সরিষার আবাদে।
কৃষিবিদ আবু সায়েম জানান, জমিতে পানি জমে থাকলে সরিষা ছত্রাকজনিত রোগের আক্রান্ত হবে। এতে ফসল নষ্ট বা সরিষা দানা কালচে হতে পারে। এ অবস্থায় সরিষা কেটে রোদে শুকিয়ে নিলে কোনো সমস্যা হবে না। তবে উৎপাদন একটু কমে যাবে।
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, মাঘ মাসের হঠাৎবৃষ্টিতে সরিষা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে পানি জমে ছিল। খেতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ চাষীদের দেয়া হয়েছে। তবে সরিষা খেত ঘরে তোলার সময় হয়েছে, তাই তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখ্য যে, এবারে জেলায় ৫ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এ ফসলে অধিক লাভবান হওয়ায় চাষীরা যা গতবারের চেয়ে ৫৫ হেক্টর অধিক জমিতে সরিষা চাষাবাদ করেছে।