• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সৈয়দপুরে মরা নদী-খালে ফিরেছে নতুন প্রাণ

।। রেজা মাহমুদ ।। সরকারের ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় পুনর্খননের ফলে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মৃতপ্রায় নদী ও খাল নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে শুকনো মৌসুমেও মিলছে সেচ ও মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহের সুবিধা। এমনটি জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।

এই প্রকল্প জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ দেশের জলবায়ু মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে জানান সৈয়দপুর পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার।

তিনি বলেন, ডেল্টাপ্ল্যান ২০২১ বাস্তবায়ন সফলভাবে শেষ হলে ছোট নদী, খাল ও জলাশয়ে পানি প্রবাহবৃদ্ধি পাবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে হলে নদীগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুর্খখনন কাজ চলমান রাখতে হবে বলে জানান তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুর পওর সূত্রে জানা যায়, ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ৬৪ জেলায় মৃতপ্রায় নদীগুলোর প্রাণ ফেরাতে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনর্খ। এ প্রকল্পের আওতায় পাউবো সৈয়দপুর পওর বিভাগ গত ও চলতি অর্থ বছর মিলে ৫৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ টি নদী ও ৩টি খালের ২৬২ দশমিক ২৬ কিলোমিটার পুনঃখনন করছে। এর মধ্যে খরখরিয়া নদীর ২৮ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার ও নদীটির শাখা খাল ১৫ দশমিক চার কিলোমিটার, জমিদার পঁচানালা খালের ২১ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার, বাঙ্গালীপুর জলকর খালের দুই দশমিক এক কিলোমিটার ,ধাইজান নদীর ২৮ দশমিক ৩৮, দেওনাই চড়ালকাটা যমুনেশ্বরী নদীর ৩৫ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ঘৃণায় করতোয়া নদীর ৮৫ কিলোমিটার খনন কাজ চলমান রয়েছে। নদী ও খালগুলোর উভয় পাড়ের নতুন মাটিতে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রকারের ৯ হাজার গাছের চারা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, শুকনো মৌসুমেও এসব নদীতে মিলছে পানি। নদীর পানি দিয়ে কৃষকরা জমিতে সেচ দিচ্ছেন। সেচ সুবিধা পাওয়ায় নদীর তীরবর্তী কৃষি জমিগুলো ফসলে ভরে গেছে। নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন জেলেরা। মিলছে নানা প্রজাতির মাছ। নদীর উভয় পাড়কে সুরক্ষিত এবং লোক চলাচলের ব্যবস্থা করাও হয়েছে। উভয় পাড়ে লাগানো নানা প্রজাতির গাছ বেশ বেড়ে উঠছে। এতে নদীর সৌন্দর্য্য বেড়েছে।

উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের পোড়ারহাট এলাকার জেলে বিশ্বনাথ সরকার বলেন আগে খরখরিয়া নদীতে বেশিরভাগ সময় কোনো পানি থাকতো না। তখন কস্ট করে কোনোমত সংসার চলত। এখন নদীতে বারোমাস পানি থাকে। ফলে বার মাসই মাছ শিকার করতে পারছি। এতে সংসারে স্বাচ্ছলতা এসেছে।

খরখরিয়া নদী সংলগ্ন সৈয়দপুর শহরের কুন্দল এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৭ সালে বন্যায় নদীর পাড় ভেঙ্গে গিয়ে পানিতে প্লাবিত হপ্য ক্যান্টমেন্টসহ পুরো শহর। পরে নদীটি খনন করায় নাব্য বৃদ্ধির ফলে পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায় নদী তীরবর্তী মানুষ বর্ষার মৌসুমে ভাঙনের হাত থেকে রেহাই পেয়েছে। তাছাড়া শুকনো মৌসুমেও পানি মিলছে।

তিনি আরও বলেন সরকারের মহৎ উদ্যোগের কারণে নদীগুলো যেমন প্রাণ ফিরে পেয়েছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে।

সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপির সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান বলেন, পঁচানালা খালের পাশে ভাতারমারি পাথারে (বিলে) আমার কয়েক হেক্টর জমি রয়েছে। আগে জমিগুলো বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকতো, পানি বের হওয়ার পথ ছিলো না। এখন খালটি পুনর্খখনন করায় পানি সরে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। এখন আমরা ১২ মাসই নানা ধরণের ফসল ফলাতে পারছি।

সৈয়দপুর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খগেন বাবু বলেন, খননের ফলে নদীগুলোতে সারা বছর পানি থাকছে। এসব নদী ও খালে আগের চেয়ে দেশী মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন। আর নদী ও খালগুলোতে মাছ চাষ করা হলে মাছের অভয়ারণ্য হবে।’ এতে একদিকে স্থানীয়দের যেমন আমিষের চাহিদা পূরণ হবে, পাশাপাশি দেশের মৎস্যসম্পদ রফতানিতে সহায়ক হবে বলেও জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছদুল মোমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগে কোনো সরকার প্রধান নদীগুলো বাঁচাতে উদ্যোগ নেয়নি। পুনর্খনন করে নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ