জয়পুরহাট প্রতিনিধি।। জয়পুরহাটে সাবেক স্ত্রীকে মারধরের জেরে পুলিশের হাতে আটক মুনিরুজ্জামান (৪৮) নামে এক ব্যাক্তি হাসপাতালে মারা গেছেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তাকে জয়পুরহাট শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকা থেকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে আসার পর তিনি অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুপুরে সেখানে চিৎিসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত মুনিরুজ্জামান দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি মৃত্যুর ১০ মাস পূর্ব পর্যন্ত জয়পুরহাট শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকায় তার স্ত্রীর (তালাকের পূর্ব পর্যন্ত) সাথে বসবাস করতেন।
জেলার পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর মেয়ে ও মুনিরুজ্জামানের সাবেক স্ত্রী কুইন বেগম অভিযোগে জানান, প্রায় ২ বছর পূর্বে মুনিরুজ্জামানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা জয়পুরহাট জেলা শহরের দেওয়ানপাড়া মহল্লায় ভাড়া করা বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন। এর কিছু দিন পর তিনি জানতে পারেন তার স্বামী মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তার স্বামী প্রায় মাদকাসক্ত অবস্থায় হয়ে বাড়ি ফিরে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
কুইন জানান, ‘এরপরও মুনিরুজ্জামানের সাথে সংসার করার ইচ্ছা থাকলেও তিনি আমাকে গত ১০ মাস আগে তালাক দিলে আমি আদালতে ভরন-পোষন ও দেনমোহরের মামলা করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্য রাতে মাদকাশক্ত অবস্থায় মুনিরুজ্জামান আমার ভাড়া বাসার প্রাচীর টপকে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর আমাকে লাঠি ও বৈদ্যূতিক তার দিয়ে মারধর করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়। বাধ্য হয়ে আমি ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।’
জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান জানান, ‘ মুনিরুজ্জামানকে থানায় নিয়ে আসার পর মাদকাসক্তির লক্ষনসহ তার অস্বাভাবিক শারীরিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করে দুপুরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।’
জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের ত্বত্তাবধায়ক ডাঃ রাশেদ মোবারক জানান, ‘এর আগে মঙ্গলবার মুনিরুজ্জামান সড়ক দূর্ঘটনায় সামান্য আহত হয়ে হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। বুধবার পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। মুনিরুজ্জামানের শরীরে পুলিশী নির্যাতনের কোন চিহ্ন নেই।’ তবে ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর কারন জানা যাবে বলেও জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ রাশেদ মোবারক।