সিসি নিউজ।। ঈদুল আযহায় পশু কোরবানি উপলক্ষে পেশাজীবী ছাড়াও নীলফামারীর সৈয়দপুরে মৌসুমি কসাইদের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। কদর বেশি হওয়ায় স্থানীয় অনেক পেশাজীবী ও মৌসুমি কসাইরা ছুটছেন রাজধানীতে। কসাই সংকটের কারণে তাই তারা পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস বানানোর ইচ্ছেমতো পারিশ্রমিক দাবি করা হচ্ছে। তাই পশু কোরবানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বলে জানিয়েছন ভুক্তভোগী কয়েকজন।
জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলায় পেশাজীবি কসাই রয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। এছাড়া ঈদুল আযহা উপলক্ষে দুই শতাধিক মৌসুমী কসাই হিসেবে কাজ করেন। তারা কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস বানানোর জন্য এখানে একটি বড় গরুর জন্য ১৪ থেকে ১৫ হাজার, মাঝারি আকারের গরুর জন্য চার থেকে পাঁচ হাজার ও ছোট গরুর জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর চাহিদা ও টাকার পরিমান বেশি হওয়ায় অধিকাংশ কসাই কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস বানানোর কাজ করতে প্রায় ২০০ কসাই ছুটবেন ঢাকায় । এদের অনেকেই ভিন্ন পেশার মানুষ হলেও কেবল দুই তিন দিনের জন্য তারা ছুরি চাপাতি হাতে নেমে পড়েন এ কাজে।
মোঃ রব্বানী নামের এক কসাই বলেন, গত দুইদিনে মুঠোফোনে ঢাকা পাঁচটি কাজের অর্ডার পেয়েছি। ঢাকায় কাজের দাম বেশি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা ৬ জন এই কাজ করতে ঈদের আগের দিন ঢাকায় যাব। আরমান হোসেন নামেত এক মৌসুমী কসাই জানান, প্রথম প্রথম কাজ করতে গিয়ে চামড়া কিছু নষ্ট হয়েছিল। কাজটি শিখে নেয়ায় এখন আর চামড়া নষ্ট হয় না। এ পর্যন্ত পাঁচটি গরুর কাজের অর্ডার পেয়েছন তিনি।কসাই সংকটে ভূক্তভোগী আমিরুল হক নামের একজন বলেন, গরু কুরবানির মাংস বানানোর জন্য সাত দিন আগে কসাই ঠিক করেছিলাম। অগ্রিম তাকে কিছু টাকাও দিয়েছি। কিন্তু গতকাল বুধবার তিনি টাকা বায়নার টাকা ফেরত দিয়ে জানান পারিশ্রমিক বেশি এক সাথে চারটি কাজ পাওয়ায় তিনি ঢাকা যাচ্ছেন ঈদের আগের দিন তাই তিনি কাজটি করতে পারবেন না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, কসাইয়ের সংকট থাকায় এদের ভাব এবং ডিমান্ড দুটাই বেড়ে যায় কোরবানির সময়।
সৈয়দপুর গরুর মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ নাদিম বলেন, এই ঈদে কসাইয়ের চাহিদা ব্যাপক । কারণ সাহায্য করার মত কাউকে পাওয়া যায় না। এসময় মৌসুমি কসাইয়ের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়। চাহিদা ও পারিশ্রমিক বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ কসাই ঈদের আগে ঢাকায় যান। এ জন্য স্থানীয়ভাবে কসাই সংকট হয়। মৌসুমী কসাইদের উপর নির্ভর করতে হয়। তবে এর ফলে মূল্যবান চামড়া নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারা ইচ্ছামত দাম রাখে। তিনি আরও বলেন, গরুর দাম হিসেবে প্রতি হাজারে ১০০-১৫০ টাকা অথবা মালিকের আলাপ আলোচনা করে দাম ঠিক করে কাজ করেছেন পেশাদার কসাইরা।