
।।মেহেদী হাসান, ফুলবাড়ী।। বিড়ম্বনা পিছু ছাড়ছেনা কর্মজিবী মানুষের,ঈদের আনান্দ পরিবারের সাথে ভাগা-ভাগী করতে, শত বিড়ম্বনা পেরিয়ে যারা নাড়ীর টানে বাড়ীতে আসেন, কর্মক্ষেত্রে ফেরার পথে একই বিড়ম্বনা শিকার হন কর্মজিবীরা।
ঈদের আনান্দ শেষ হতে না হতেই আবারো কর্মক্ষেত্রে ফেরার তড়িঘড়িতে পড়ছেন বিড়ম্বনায়। কোথাও টিকেট নাই, ট্রেনের টিকিট হাতে পাওয়া যেন সোনার হরিন পাওয়ার অবস্থা, দ্বিগুন দামেও মিলছেনা বাসের টিকেট। এর সাথে পাল্লা দিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে টিকেট কালো বাজারীদের দৌরাত্ব। অনেকে টিকিট না পেয়ে বাস ও ট্রেনের ছাদে ঠাই নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ফিরতে দেখা গেছে।
এদিকে ট্রেনের টিকিট নিতে গিয়ে অনেকে টিকিট কালোবাজারীদের হাতে অনেক যাত্রী স্ত্রী-সন্তানদের সামনে শারিরিক লাঞ্চিতের শিকারও হয়েছেন। এই ঘটনা নতুন নয়।
দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলাটি যোগাযোগের ক্ষেত্রে চারটি উপজেলার কেন্দ্রস্থল হওয়ায়, প্রতিবছর ঈদের ছুটি আসলেই টিকেট কালোবাজারীদের দৌরাত্ব শুরু হয়।
তথ্য অনুষন্ধানে মঙ্গলবার সন্ধায় ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় টিকিট কাউন্টারের সামনে চেয়ার ব্রেঞ্চ দিয়ে স্থানীয় একটি টিকেট কালোবাজারী সিন্ডিকেট লাইন দিয়ে রয়েছে, এর প্রতিবাদ করায় নুরুজ্জামান নামে এক যাত্রী টিকিট কালো বাজারীদের হাতে শারিরিক লাঞ্চিতের শিকার হয়েছে, একই ভাবে অশ্লিল ভাষায় গালমন্দর শিকার হয়েছে আশরাফুল ইসলাম নামে একজন সেনা সদস্য। ট্রেনযাত্রীরা জানায় টিকিট কাউন্টারের সামনে চেয়ার ব্রেঞ্চ দিয়ে একটি লম্বা লাইন করে রাখে স্থানীয় কয়েকজন যুবক, ট্রেনের টিকিট দেয়া শুরু হলেই তারা আগাম টিকিট নিয়ে নেয়, এদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে থেকেও টিকিট পায়না সাধারন যাত্রীরা।
স্টেশন মাস্টার ইসরাফিল আলম এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি, তবে বৃকিং সহকারী রায়হান মিয়া জানায় ১৫জুন পর্যন্ত স্টেশনে কোন টিকিট নাই সব টিকিট আগাম বিক্রি হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিয়াজ উদ্দিন বলেন, তিনি গত ঈদুল ফিতরে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে কয়েকজন টিকেট কালোবাজারীর জরিমানা করেছেন, আবারো শিঘ্রই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফুলবাড়ী রেলস্টেশন সুত্রে জানা গেছে,এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন ১০টি আন্তঃ নগর ট্রেন যাতায়াত করে, এর মধ্যে ঢাকায় ৫টি ট্রেন যাতায়াত করলেও ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে নীলসাগর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস নামে ৩টি ট্রেন যাত্রা বিরতি করে, এছাড়া রাজশাহী গামী রয়েছে বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বাংলাবান্দা এক্সপ্রেস ৩টি ও খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ও রূপসা এক্সপ্রেস দুটি।
ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস এই ৩টি ট্রেনের মাত্র ৩৮টি সীট এই টিকেট কাউন্টারের জন্য বরাদ্ধ রয়েছে। খুলনাগামী দুটিতে ১২টি ও রাজশাহীগামী ট্রেনের ৪৫টি। এছাড়া পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস নিয়মিত যাতায়াত করলেও, ট্রেন দুটির ফুলবাড়ীতে যাত্রা বিরতি নাই।
এদিকে দিগুন দাম দিয়েও টিকিট মিলছেনা দুরপাল্লার বাসকাউন্টার গুলোতে। সেখানে আন্তঃ জেলা চলাচলকারী বাস ভাড়া নিয়ে গন্তব্য স্থলে যেতে দেখা গেছে অনেককে। বাস কাউন্টার মাস্টারের বলেন বরাদ্ধের টিকিট আগাম বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এখন হাতে টিকিট নাই। এই কারনে বাস রিজার্ভ করে যাত্রীদের সীট দেয়া হচ্ছে, যার করনে ভাড়া একটু বেশি।
ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের সন্নিকটে রয়েছে সরকারের বৃহৎ তিনটি প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি, বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মধ্যপাড়া পাথর খনি। এর পাশাপাশি ফুলবাড়ী ২৯ বডার গার্ড ব্যটলিয়নের সদর দপ্তরও ফুলবাড়ীতে, এছাড়া ফুলবাড়ী পৌর শহরের কোল ঘেষে রয়েছে পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর, হরিরামপুর ও মোস্তফাপুর ইউনিয়ন, নবাবগঞ্জ উপজেলার জয়পুর ও কুশদহ ইউনিয়ন, বিরাপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়ন, এই এলাকার বাসীন্দারা ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করে। ফলে সারা বছরে ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনে টিকিটের সংকট লেগে থাকে, আর ঈদের ছুটি শুরু হলে এই সংকট আরো বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠে টিকিট কালোবাজারীরা।
রেলওয়ে যাত্রীরা বলেন,ফুলবাড়ী রেলওয়ে ষ্টেশনের গুরুত্ব বিবেচনা করে রেলের টিকিট বৃদ্ধি করাসহ পাশাপাশি পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনদুটির যাত্রা বিরতি করা একান্ত প্রয়োজন।