• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দেশজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা

ShohidMinar.ঢাকা: ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনকে ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সম্প্রতি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আল কায়দা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির বাংলাদেশে জিহাদের ডাক সম্পর্কিত এক অডিও বার্তা প্রকাশ হওয়ার পর এবার নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্ক থাকছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি থাকছে সাদা পোশাকে থাকছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সিসিটিভি ক্যামেরা, আর্চওয়ে ছাড়াও বোমা ডিস্পোজাল টিম, ডগ স্কোয়ার্ড টিম, সোয়াত টিম ছাড়াও তল্লাশি চৌকি বসানো হবে বিভিন্ন জায়গায়।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, জেলা উপজেলার শহীদ মিনার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগ থেকে পরদিন পর্যন্ত কঠোর নজরদারী রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও যাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি না হয় তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সব ধরনের হুমকিকে মাথায় রেখেই পুলিশ ২১ ফেব্রুয়ারির নিরাপত্তার বিষয়টি সাজানো হয়েছে। নির্বিঘ্নে মহান ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা রয়েছে। আশা করছি এসব নির্দেশনা নগরবাসী মেনে চলবেন।’

ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি আমরা। আশাকরি নির্বিঘ্নে আমরা এবার ২১ ফেব্রুয়ারি উদযাপন করতো পারবো।’

সূত্র জানায়, এবার বিশৃঙ্খলা এড়াতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ হলেও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হওয়ার ১ ঘণ্টা পর সাধারণের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রবেশ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএমপি। প্রায় ২৮টি রোড ব্যারিকেড করা হবে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত। বিরোধী দলের নেতাদের আগমনের জন্য রাখা হয়েছে ভিন্ন ব্যবস্থা।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এবারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তার জন্য অর্ধশতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে। থাকবে পুলিশ কন্ট্রোল রুম। ষেখান থেকে নিরাপত্তার সার্বিক দিক মনিটরিং করা হবে।

পুলিশের রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বাংলামেইলকে জানান, অন্যান্য বছরের নিরাপত্তায় যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবার তার চেয়ে একটু ভিন্ন মাত্রায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিত্বে যেসব স্থানে যে ধরনের নিরাপত্তা নেয়া দরকার বলে মনে করা হয়েছে সেভাবে সিকিউরিটি প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে (বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত) শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় ৫৭টি সিটি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের জন্য শহীদ মিনারে প্রবেশের বিভিন্ন পয়েন্টে ১২ টি আর্চওয়ে এবং সর্ব সাধারণের জন্য ৮ টি আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে। শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় ৭ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ।

রাজধানীতে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় ৫ হাজার ও বাকি ১৫ হাজারেরও বেশি পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মোতায়েন করা হবে।

পুলিশ হেডকোয়াটার্সের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর বাইরে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলায় মহান মাতৃভাষা দিবস উদযাপনকে ঘিরে পুলিশকে সতর্ক থাকার নিদের্শ ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদিরা জাহান বাংলামেইলকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে র‌্যাবের পক্ষ থেকে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পোশাকধারী র‌্যাব সদস্যের পাশাপাশি যেকোন ধরনের হুমকি ও নাশকতা প্রতিরোধে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। রাজধানীতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের টহল টিম তল্লাশি ব্যবস্থা থাকছে সার্বিক নিরাপত্তায়।’

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় ৮ হাজার র‌্যাব সদস্য পোশাকে ও সাদা পোশাকে থাকবে। রাজধানীতে সাড়ে হাজার এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাড়ে ৪ হাজার র‌্যাব সদস্য থাকবে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যত ধরনের প্রযুক্তি র‌্যাবের রয়েছে সবই রাখা হচ্ছে নিরাপত্তায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ