সিসি নিউজ ।। নীলফামারীতে ফের বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তার পানি। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের উত্তাল তিস্তা। সকাল থেকে উজানের ঢলের পানি তীব্র গতিতে ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এজন্য তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সেখানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে নীলফামারীর ডিমলায় বন্যায় তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেত।
গত মাসে বন্যায় কৃষকরা হারিয়েছিলো আমন বীজতলা। চড়া দামে তা রোপন করলেও এবারের বন্যায় সেই আমন গাছও পানির নিচে। উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা ও ঝুনাগাছ চাপানীর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তদের দাবি, পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষকদের দেয়া হচ্ছে সহায়তা। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামের চাষী নুরে আলম জানান, চলতি আমন মৌসুমে ১১ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নষ্ট হতে বসেছে উঠতি আমনের ক্ষেত।
কিসামত চরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, কয়েক বিঘা জমি নদীতে গেছে। আবাদ নিয়ে অনেক শঙ্কায় থাকতে হয়। যেভাবে পানি বেড়েছে, তা পানিতে কয়েকদিন ডুবে থাকলে ক্ষতির মুখে পড়বে চরাঞ্চলের আমন চাষীরা।
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, তিস্তা এলাকায় প্রায় ১০ হেক্টর জমির মতো আংশিক আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। বন্যায় এসব জমির আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে থাকার স্থায়িত্বের ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ২০ সেন্টিমিটার (৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। এদিকে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখে সর্তকাবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ণ বোর্ড।