কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।। কুড়িগ্রামের উলিপুরে শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগে এক মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি গত সোমবার আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সন্তানকে শাসন করার সময় আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ফরহাদ হোসেন (১০) উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের পাতিলাপুর মিয়াপাড়া গ্রামের নুর আলম মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় ঘাটিয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ফরহাদ নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেলে শুক্রবার তাঁর মা ফেরদৌসী বেগম উলিপুর থানায় সন্তান নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেই সঙ্গে ওই দিন পরিবারের পক্ষ থেকে ফরহাদের সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে ২০০ গজ দূরে ধানখেত থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফরহাদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা ১০ সেপ্টেম্বর রাতেই অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে উলিপুর থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ ফরহাদ হত্যার মামলাটির তদন্ত শুরু করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।
পুলিশ আরও জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ফরহাদ দেরি করে বাড়িতে ফেরায় মা ফেরদৌসী তাকে অতিরিক্ত শাসন করতে গিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। পরে মা সন্তানের লাশ গুম করেন এবং হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য তিনি লাশটি রাতেই ধানখেতে ফেলে রাখেন। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে থানায় জিডি ও মাইকিং করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উলিপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমীন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রাথমিকভাবে শিশুর মা ফেরদৌসীকে সন্দেহ হয়। এরপর সোমবার তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। হত্যা মামলাটির তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আরও তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির বলেন, শিশুটির মা ফেরদৌসী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।