• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নীলফামারীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষন ও হত্যা মামলার রায়ে আসামীর মৃত্যুদন্ড

সিসি নিউজ ।। নীলফামারীর জলঢাকা স্কুল ছাত্রী ইতি আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ের একমাত্র আসামী মাহমুদার রহমানকে (৩৭) মৃত্যুদন্ড এবং দেড় লাখ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করেছে আদালত। মামলার দীর্ঘ ১৩ বছর পর বুধবার দুপুরে আসামীর অনুপস্থিতিতে ওই দন্ডাদেশ প্রদান করেন নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. মনসুর আলম।

নিহত ইতি আক্তার (১৫) জলঢাকা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং জলঢাকা মাথাভাঙ্গা গ্রামের ইয়াকুব আলীর মেয়ে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে দন্ডপ্রাপ্ত মাহমুদার রহমান। সে জলঢাকা উপজেলার দুন্দিবাড়ী গ্রামের আফান উদ্দিনের ছেলে।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ মতে, ২০০৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিকালে জলঢাকা শহরের মাথাভাঙ্গা গ্রামস্থ বাড়িতে ইতি আক্তারকে একাকী পেয়ে ধর্ষণের পর শ্বাষরোধ করে হত্যা করেন মাহমুদার রহমান। ওই ঘটনার পরদিন (১অক্টোবর) ইতি আক্তারের বাবা এয়াকুব আলী বাদি হয়ে মাহমুদারকে একমাত্র আসামী করে জলঢাকা থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।

জলঢাকা থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী মাহমুদার রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। ওই মামলার ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর বুধবার আসামীর অনুপস্থিতিতে বিজ্ঞ আদালকের বিচারক আসামীকে মৃত্যুদন্ড এবং দেড় লক্ষ টাকা অর্থদন্ডাদেশ প্রদান করেন।

মামলায় রাষ্ট পক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিশেষ পিপি রমেন্দ্র বর্ধণ বাপ্পী। তাঁকে সহযোগিতা করেন জেষ্ঠ আইনজীবী হারেস মর্তুজা ও লায়লা আঞ্জুমান আরা ইতি। অপর দিকে মামলার আসামী মাহমুদার রহমানের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী আব্দুল লতিফ সরকার।

বাদীকে আইনী সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবী লায়লা আঞ্জুমান আরা ইতি বলেন, ‘ঘটনার পর আসামী উচ্চ আদালতে জামিনের প্রার্থনা করলে উচ্চ আদালত তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিন্ম আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আসামী নিন্ম আদালতে হাজির না হয়ে অদ্যাবধি পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার কার্য সম্পন্ন হয়।’

রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিশেষ পিপি রমেন্দ্র বর্ধণ বাপ্পী বলেন, ‘আনীত অভিযোগ বিজ্ঞ আদালতে সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামী মাহমুদার রহমানকে মৃত্যুদন্ড এবং দেড় লক্ষ টাকা অর্থদন্ডাদেশ প্রদান করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. মনসুর আলম।’ তিনি বলেন, ‘আদালতের মাধ্যমে বাদিপক্ষকে আমরা ন্যায় বিচার দিতে পেরেছি। এজন্য আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে কতৃজ্ঞ প্রকাশ করছি। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী পলতাক রয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত রায় কার্যকর করা হবে।’

ইতি আকতারের বড় ভাই শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই মামলার বাদি ছিলেন আমার বাবা। দীর্ঘ ১৩ বছর পর মামলা রায় হলে, আমার ন্যায় বিচার পেলাম কিন্তু সেই বিচার দেখে যেতে পেলেন না বাবা। তিনি আজ বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। মামলা দায়েরের পর বাবা তার স্বাক্ষ্য আদালতে পেশ করেছিলেন। বোন ইতি আক্তার হত্যার ঘটনায় তিনি শারিরীক ও মানষিক ভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছিলেন। এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারী বাবা মারা যান।’

মামলার রায় শুনে ইতি আক্তারের মা মোছাম্মৎ হাসনা বেগম (৬৫) বলেন, ‘ওর বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। এখন আমরা চাই দ্রুত আসামীকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসির রায় কার্যকর হউক।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ