সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক জুলফিকার রহমান হেলালের বিরুদ্ধে থানায় দায়েরকৃত শ্লীলতাহানির মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে মামলাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে ন্যায় বিচারের দাবি জানানো হয়। গতকাল শনিবার রাতে স্থানীয় এক হোটেলে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
স্কুল শিক্ষকের ছেলে শাদমান আজিজ লিখিত বক্তব্যে বলেন, আলহাজ্ব জুলফিকার রহমান হেলাল একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি সুদীর্ঘ ৩৫ বছর সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে অত্যন্ত সততা ন্যায়, নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে অবসর নেন। তিনি অবসরে গিয়ে বর্তমানে ক্ষুদ্র পরিসরে কাঠের ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়ার জনৈক আজিজুল ইসলাম স্কুল শিক্ষক জুলফিকার রহমান হেলালের সম্পর্কে চাচা শ্বশুর। আর তার কাছ থেকে দুইটি গাছ ক্রয় করেন তিনি। গত ২ নভেম্বর সকালে তিনি শ্রমিক নিয়ে গাছ কাটার উদ্দেশ্যে আজিজুল ইসলামের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়ার বাসায় যান। শ্রমিকরা গাছ কাটা শুরু করার এক পর্যায়ে আজিজুল ইসলামের ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া মেয়ে ইষা ইবনাত এসে স্কুল শিক্ষক হেলালকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকেন। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লোকজনের উপস্থিতিতে স্কুল শিক্ষক সেখান থেকে চলে যান। এ ঘটনার পর ইষা ইবনাত তাঁর মা স্কুল শিক্ষিকা মাহবুবা শারমিন ও জনৈক জাহিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সৈয়দপুর থানায় গিয়ে স্কুল শিক্ষক হেলালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির একটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ইষা ইবনাতের মা ও জনৈক জাহিদুল ইসলামকে স্বাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ তাদের সেখানে থাকার কোন প্রমাণ নেই। কারণ ইষা ইবনাতের মা মাহবুবা শারমিন সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টস্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা। মামলায় ঘটনা যে সময় উল্লেখ করা হয়েছে তিনি ওই সময়ে তাঁর কর্মক্ষেত্রে হাজির ছিলেন। এছাড়াও জাহিদুল ইসলামও মামলায় উল্লিখিত সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
ইষা ইবনাতের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি মামলা মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। মূলত তারই সূত্র ধরে স্কুল শিক্ষক জুলফিকার রহমান হেলালকে টার্গেট করে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফাঁসনো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলণে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্কুল শিক্ষক জুলফিকার রহমান হেলালের স্ত্রী মেহেরুণ নেছা, মেয়ে সাজিয়া জাফরিন ও ষিলভিয়া পারভীনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।