• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে কোচ থেকে দুই কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার নিয়ে ধুম্রজাল!

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে পঞ্চগড়গামী নাবিল পরিবহনের একটি নৈশকোচ থেকে ২০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলো সাড়ে ৪ ঘন্টার ব্যবধানে দুই দফায় পরীক্ষা এবং অভিযানের ১৬ ঘন্টা পর রাত ১২টা ১০ মিনিটে (১২ ফেব্রুয়ারী) সৈয়দপুর থানায় মামলা দায়ের করায় জনমনে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
গত শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নীলফামারী জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সৈয়দপুর শহরের অদূরে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের কামারপুকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই স্বর্ণগুলো উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নীলফামারী জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নৈশকোচের দুই যাত্রীকে আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উদ্ধার হওয়া ২০টি স্বর্ণের বারের ওজন দুই কেজি ৩শ ৩৩ গ্রাম দেখানো হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
মামলার সূত্রমতে, নীলফামারী জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি মাদক বিরোধী আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সকালে পঞ্চগড়গামী নাবিল পরিবহন একটি নৈশকোচ (ঢাকা মেট্টো-ব-১৪-৪১৯১) আটক করে। এসময় কোচের ই ৩ ও ৪ নম্বর আসনের দুই যাত্রীর দেহ তল্লাশী করে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার ও তাদেরকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের নুরু উল্লাহের ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (২৬) এবং একই এলাকার সমন আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (২৫)।
পরবর্তীতে বেলা সোয়া ১টার দিকে প্রথম দফায় স্থানীয় সৈয়দপুর গোল্ড হলমার্ক সেন্টারে পরীক্ষা শেষে উদ্ধার হওয়া ১৫টি স্বর্ণের বার আসল স্বর্ণ হিসেবে নিশ্চিত হয় উদ্ধারকারী দল। কিন্তু এ সময় ৩০ থেকে ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের বিষয়টি গোটা জেলায় চাউর হয়ে পড়ে। এরপর উদ্ধারকারী দলটি বিকেল ৫টা ৪৩ মিনিটে আরো ৫টি স্বর্ণের বার আটককৃত যাত্রীদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে সংবাদকর্মীদের কাছে প্রকাশ করায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া মামলায় সৈয়দপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে অভিযান পরিচালনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযানকালে ওই কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। তবে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বার থানায় এনে জব্দ তালিকা তৈরীর সময় ওই কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
কথা হয় মামলার বাদী ও নীলফামারী জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেলে দ্বিতীয় দফায় তল্লাশীর সময় মোহাম্মদ উল্লাহ নামের আসামীর পরিধানের আন্ডার ওয়্যার থেকে ৫টি স্বর্ণের বার সহ মোট ২০টি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মামলায় তা উল্লেখ না করে এক সাথে উদ্ধারের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। তবে ৩০ থেকে ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের বিষয়টি গুজব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, রাত ১২ টা ১০ মিনিটে মামলা দায়ের করার পর আসামীদের পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়। এর আগে অভিযানিক দলের আওতায় ছিল স্বর্ণের বার ও আসামীগণ। তিনি জানান, আসামীদের আদালতের মাধ্যমে রোববার কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে থানার উপ পরিদর্শক হামিদুল ইসলামকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে নয়, জব্দ তালিকা ও প্রথম দফায় স্বর্ণের বার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ