• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

হারিয়ে যাচ্ছে শিমুল গাছ

Simul
এম আর মহসিন: লাল লাল শিমুল ফুল। আকর্ষণীয় এ ফুলের সৌরভ নেই। তবে আবহমান গ্রামবাংলার বসন্তের শিমুল ফুলের গাছের সারি চিরন্তন এক রুপ আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। ড্রইং রুমের ফুলদানিতে স্থান না পেলেও এ শিমুল গাছ গ্রামবাংলার মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এক বিরাট ভূমিকা পালন করে আসছিলো।
সারিবদ্ধভাবে বা বিক্ষিপ্তভাবে কাঁটাযুক্ত শিমুল গাছ গ্রামবাংলার সর্বত্রই কমবেশি নজরে পড়ে। তবে লালচে তাম্র বর্ণের মাটিতে টিলা আকারের স্থানে শিমুল গাছ বেশি জন্মে থাকে। বীজ থেকে চারা ফুটে বের হবার পর থেকে ৭/৮ বছরের মধ্যেই শিমুল গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে। তবে গাছের বয়োপ্রাপ্তি হয় ১০/১২ বছর পর। এসময় থেকেই শিমুল গাছ থেকে অর্থনৈতিক উপকারিতা পাওয়া যায়। এর ফুল গুচ্ছ আকারের লালচে বর্ণের হয়ে থাকে। এ ফুলের তেমন কোন আকর্ষিত করবার মতো সৌরভ না থাকলেও পথচারীরা ক্ষণিকের তরে হলেও এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে পারে না।
শিমুল গাছ সাধারণ ৭০/৮০ হাত লম্বা ও ৬/৭ হাত বা তদুর্ধ মোটা আকারের হয়ে থাকে। বন্যার পানি বা খরায় এর কোন ক্ষতি হয়না। বাঁচেও শতাব্দির পর শতাব্দি কাল পর্যন্ত। মাঘ ফাল্গুন মাসে এ গাছে ফুল ধরে এবং চৈত্র বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে ফল পরিপক্ক হয়। এগুলি সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে নিলে এর ভিতর থেকে বেড়িয়ে আসে সাদা ধবধবে তুলা। একটি বড় আকারের শিমুল গাছ থেকে বছরে কমপক্ষে ৩/৪ মন এমনকি তারও বেশি তুলা পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি শিমুল তুলা ৩শ’ ৫০ টাকা কেজি হিসাবে যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ৩৬ হাজার থেকে ৪৮ হাজার টাকা।
এক বিঘা পরিমান পতিত জমিতে লাইন করে প্রায় ৩০টি শিমুল গাছ লাগানো যেতে পারে। এর সবগুলিতে ফল দেয়া শুরু করলে তা থেকে তুলা সংগ্রহ করে বিক্রি করলে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা হতে পারে। নীলফামারী জেলায় ও তার আশেপাশে বেশকিছু পরিবার রয়েছে শিমুলের সংগৃহিত তুলা বিক্রি করে পরিবার- পরিজন নিয়ে সংসার চালান। এছাড়া শিমুল গাছ বড় আকারের হওয়ায় এর নিচে শাক-সবজি, মরিচ, বেগুন, পিঁয়াজ- রসুন, হলুদ ইত্যাদি আবাদ করায়ও কোন অসুবিধা হয়না। তবে অত্রাঞ্চলের এক শ্রেনীর অলস প্রকৃতির লোকজনের অবহেলার দরুণ শিমুল গাছ থেকে যথাসময়ে ফল সংগ্রহ না করার কারণে বিপুল মূল্যের তুলা গাছে থাকা অবস্থাতেই আকাশে উড়ে যায়।
শিমুল তুলা যে শুধু মাথায় দেয়া বালিশের কাজে ব্যবহৃত হয় তাই নয়- শিমুল গাছের ছালও বিষফোঁড়া নিরাময়ে কার্যকরী মহৌষধ। কবিরাজগণ পুরনো শিমুল গাছের ছাল চূর্ণ করে তাতে পুরানো গাওয়া ঘি মিশ্রিত করে বিষফোঁড়ার উপর প্রলেপ দিয়ে থাকে। তাছাড়া শিমুল মুলের কুচি কুচি চূর্ণ রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ঘুম থেকে উঠে গুড়সহ খালি পেটে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়। এমনকি বলবর্দ্ধকও বটে- মন্তব্য কবিরাজগণের। শিমুলের কচি কাঠ দিয়াশলাইয়ের কাঠি তৈরিতে উৎকৃষ্ট উপাদান হিসাবে বিবেচিত। শিমুলের পাতাও উৎকৃষ্ট জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিমুল তুলার বীজ থেকে কোন ভোজ্য তেল তৈরি সম্ভব কিনা তাও পরীক্ষা- নিরীক্ষার দাবি রাখে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ