• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে শুটকি সংকট, রপ্তানি বানিজ্যে ভাটা

রেজা মাহমুদ।। সরবারাহ না থাকার কারণে ভারতে শুঁটকি মাছ রপ্তানি করতে পারছেন না নীলফামারীর সৈয়দপুরের ব্যবসায়ীরা। দুই হাজার ৪০০ টন চাহিদার বিপরীতে মাত্র ২৪০ টন শুটকি রপ্তানি করতে করতে পেরেছেন তাঁরা। এর ফলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। এ বছর শ্রমিক খরচ ওঠানো নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমনটি জানিয়েছেন এখানকার কয়েকজন ব্যবসায়ী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বানিজ্যক সৈয়দপুরে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ শুটকি মাছের আড়ৎ। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শুঁটকি আসে এখানে। এর মধ্যে চলনবিল থেকে আসা পুটি মাছের শুটকির চাহিদা বেশি। ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে মে-জুন মাসে মশাবাহিত এক ধরনের রোগ দেখা দেয়। যা পুঁটি মাছের শুঁটকি খেলে সেরে যায়।  তাই সেই সময়  দিকে সৈয়দপুর  আড়ৎ থেকে প্রচুর পুঁটি মাছের শুঁটকি রপ্তানি হয় ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম, মনিপুরসহ পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে। কিন্তু  সামুদ্রিক এবং অন্যান্য দেশি মাছের শুঁটকির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও এ বছর বিরুপ প্রকৃতির  কারণে পুঁটি মাছের শুঁটকির সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে। যার ফলে শত কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্যে এক প্রকার ধস নেমেছে।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে,  প্রতি বছর অন্তত  দুই হাজার ৪০০ টন শুঁটকি  সৈয়দপুর থেকে ভারতে রপ্তানি হয়।  আকার ভেদে শুঁটকির দাম হয় একেক রকম। গড়ে ৫০০ টাকা কেজিতে এক টনের দাম ৫ লাখ টাকা।  সব মিলিয়ে অন্তত ১২০ কোটি টাকার শুঁটকি রপ্তানি হয়। অথচ এই মৌসুমে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে ২৪০ টন।
ময়মনসিংহ থেকে সৈয়দপুরের শুঁটকি আড়তে এসেছেন ব্যবসায়ী লিয়াকত হোসেন। উদ্দেশ্য পুঁটি মাছের শুঁটকি কিনে ভারতে রপ্তানি করবেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ ট্রাক পুটি মাছের শুটকি ভারতে রপ্তানি করি। কিন্তু এবার এসে চাহিদা অনুযায়ী শুঁটকি পাইনি, তাই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি।
আড়তদার আতাবুল ইসলাম জানান, এ বছর বৃষ্টি কম হয়েছে। যার ফলে পুঁটি মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। পুঁটি মাছের শুঁটকি আসে মূলত চলনবিল এলাকা থেকে। বিলেই এবার মাছ কম তাই শুঁটকিও কম এসেছে।
সৈয়দপুরের রপ্তানিকারক শাহাবুদ্দিন মিয়া  বলেন, এই মৌসুমে রপ্তানি বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা অনেকেই ব্যাংক লোনের ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী  এ বছর সংকটে পড়েছেন। এ বছর রপ্তানি করার জন্য আমিও ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি। কিন্তু শুটকি মাছ রপ্তানি করতে না পারায়   ব্যাংক লোন শোধ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
সৈয়দপুর শুকনা মাছ আড়ৎ সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হাজী আবুল বাশার  বলেন, বর্তমানে সৈয়দপুরের শুঁটকি আড়তে ১৩টি আড়ৎ ও ৬৪টি খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে । মাসে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকার শুঁটকি কেনাবেচা হয় । এখানে কাজ করেন প্রায় এজ হাজার শ্রমিক। ৫০-৬০ প্রকারের মাছের শুঁটকি পাওয়া যায় এখানে। ভারতে শুটকি রপ্তানি করতে না পারায় এবার খরচ তোলায় কঠিন হয়ে যাবে। ফলে বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ