• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :

সৈয়দপুরে হাতে তৈরি পাঞ্জাবির নকশা যাচ্ছে সারাদেশে

সিসি নিউজ।। রমজান শুরু হয়ে গেছে, সেই সাথে শুরু হয়েছে ঈদের ক্ষণগণনাও। আর কিছু না হোক, সামর্থ্য অনুযায়ী অন্তত একটা পাঞ্জাবি কেনা হয় ঈদ উপলক্ষ্যে। যারা একটু শৌখিন, তাদের পছন্দ হাতে কাজ করা পাঞ্জাবি। আর ঢাকাসহ সারাদেশে  হাতের কাজ করা যত পাঞ্জাবি পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই তৈরি হয় নীলফামারীর সৈয়দপুরে।
শুধু দেশ নয়, বিদেশেও যায় হস্তশিল্পীদের কাজ করা পাঞ্জাবি। তবে প্রতিটি ঈদে এসব পাঞ্জাবির চাহিদা বেড়ে যায়। তাই সামনে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখানকার পাঞ্জাবি নকশাকাররা। ব্যবসায়ীরা জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ক্রয়াদেশ কিছুটা কম। তারপরও অর্ধ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের উত্তরা আবাসন, গোলাহাট, ইসলামবাগ, নয়াটলা, মুন্সিপাড়া, হাতিখানা বাশবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠেছে ওঠেছে নকশা তৈরির অর্ধশতাধিক কারখানা।  এছাড়া অনেক বাড়িতেও  বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ পাঞ্জাবিতে নকশা তৈরির কাজ করে থাকেন। এমনকি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও অবসর সময় এ কাজ করে অর্থ উপার্জন করে।
পাঞ্জাবির নকশার কাজ করা  কারিগরদের মধ্যে অবাঙালির সংখ্যাই বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় এ শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় পাঁচ হাজার লোক। বছরজুড়ে কাজ করলেও রমজানের আগে চাপ আরও বেড়ে যায়। ডিজাইনভেদে এক সেটের মজুরি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। সময় লাগে এক থেকে দুই দিন। ডিজাইন, কাপড়, সুতা সবই দেয় অর্ডারদানকারী প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিন শহরের নয়াটালা এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কেউ ছোট্ট ঘরে আবার কেউবা বারান্দায় কাঠের ফ্রেমের ভেতরে পাঞ্জাবিতে বিভিন্ন ডিজাইনের  নকশা তৈরি করছেন। কারো হাতেই যেন কথা বলার সময় নেই।
কারিগররা জানান, আগে অনেকে এ পেশায় জড়িত থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন কারণে কমে যাচ্ছে সৃষ্টিশীল এই কাজের কারিগর। এর মধ্যে বড় কারণ- মেশিনে তৈরি ডিজাইন ও মজুরি কমে যাওয়া।
নয়াটলা এলাকার নওশাদ আলম,  প্রায় এক যুগের অভিজ্ঞতা নিখুঁত হাতে পাঞ্জাবির কাজের। কলার, গলা, হাতার এক সেট ডিজাইন করতে তাঁর সারাদিন লেগে যায়। নওশাদ আলম বলেন, ‘কোন কাজ ভারী আবার কোনটা হালকা। মূলত কাজের ওপর মজুরী নির্ধারণ করা হয়।’
একই এলাকার সাব্বির হোসেন নামে আরেক কারিগর বলেন, নকশার কাজ করতে অনেক সময় ও কষ্ট হয়। কিন্তু সেই তুলনায় মজুরী অনেক কম, তাই এ কাজের প্রতি অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
ওয়াসিম আলম নামের এক ব্যবাসায়ী জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর ক্রয়াদেশ কিছুটা কম। তারপরও সব ব্যবাসায়ীদের মিলিয়ে  প্রায় ৫০ লাখ টাকার অর্ডার রয়েছ। সংখ্যা বিবেচনায় যা ৭ থেকে ৮ হাজার সেট।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ