সিসি নিউজ।। পানি উন্নয়ণ বোডের্র বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিয়ে নামে কোটি কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ মিলেছে। প্রতারণার সংঘবদ্ধ একটি চক্র বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে এসব টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারিত এসব যুবক সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে কর্তৃপক্ষের নিকট নিয়োগপত্র প্রদানকালে জানতে পারছে প্রতারণার বিষয়টি। এদের মধ্যে গ্রামের সহজ-সরল বেকার যুবকদের সংখ্যাই বেশি।
পানি উন্নয়ণ বোর্ডের একটি সূত্রমতে, বিগত ৩/৪ বছর থেকে সারা দেশে পাউবোর দপ্তরে পাম্প অপারেটর, ইমাম, ড্রাইভার, গেট অপারেটর, খালাসী, কুক ও পরিছন্নতা কর্মী নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ট্রেড ইউনিয়ন উচ্চ আদালতে দায়েরকৃত একটি মামলার বিচারকার্য চলমান থাকায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব পদে জনবল না থাকায় বিঘ্ন ঘটছে দপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম।
সূত্রটি আরো জানায়, সৃষ্ট জটিলতার কারণে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় কমিটি গত বছর এক বৈঠকে এসব পদে আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেমতে অনলাইনে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে পদগুলি দুই শ্রেনীতে এক বছরের জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে জনবল নিয়োগ প্রদান করা হয়।
২০২২ সালের মে মাসে নিয়োগপ্রাপ্তরা চলতি বছরের জুন মাসে তাদের নিয়োগ চুক্তি শেষ হবে। এতে প্রথম শ্রেনীতে ইমাম ও ড্রাইভারের মাসিক ১৭ হাজার ১৩০ টাকা এবং অন্যান্য পদে নিয়োগকৃতরা ১৬ হাজার ১৩০ টাকা হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন। এদিকে চলতি বছরে পূর্নরায় টেন্ডার আহবানের পূর্বেই একটি সংঘবদ্ধ চক্র বেকার যুকদের কাছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করছে। পরে তাদের হাতে ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়ে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের যোগদানের জন্য পাঠায়ে দিচ্ছেন। কিন্তু ভূয়া নিয়োগের পত্রের বিষয়টি টের পেয়ে এসব অফিসের কর্মকর্তাগণ সতর্ক হওয়ায় প্রতারণার ঘটনাটি চাউর হয়ে পড়েছে।
নীলফামারী সদরের দারোয়ানী এলাকার মোকছেদুল ইসলাম নামে এক যুবক জানান, ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের মার্চ মাসে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে গেট অপারেটর পদে পাউবো’র নীলফামারী অফিসে নিয়োগ প্রদান করে। কিন্তু অফিসে গিয়ে জানতে পারি আউটসোর্সিয়ে এসব নিয়োগ কার্যক্রম আগামী জুন মাসে শুরু হবে। এটি একটি ভূয়া নিয়োগপত্র। পরে ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে তাঁর অফিসটি আর পাওয়া যায়নি।
ঢাকাস্থ আউটসোর্সিয়ে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহিয়া ট্রেডার্সের স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ মামুন বলেন, চলতি বছরে জুনে নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানের সাথে পাউবোর এক বছরের চুক্তি সম্পাদন হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহবানের মাধ্যমে বৈধ পন্থায় পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জনবল প্রদান করতে পারবে। তিনি বলেন, এক বছরের জন্য একজন আউটসোর্সিয়ের শ্রমিক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ভাতা পাবেন, কিন্তু ওই পরিমান টাকা উৎকোচ বা জামানতের নামে গ্রহণ করার মানেই প্রতারণা ছাড়া আর কিছই না।
এ বিষয়ে কথা হয় পাউবো’র নীলফামারী দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকারের সাথে। তিনি বলেন, গত সোমবার (২ এপ্রিল) এ অফিসে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দুর্গা রায় নামে এক ব্যাক্তির যোগদান পত্র আমার হাতে এসেছে। তিনি জেলা সদরের মধ্য হাড়োয়া গ্রামের বিক্রম চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি বলেন, বিএসএস সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত নিয়োগ পত্র এটি। নিয়োগ পত্রে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মোবাইল নম্বর গুলোর দুটি সংখ্যা সুকৌশলে কালো কালি দ্বারা ঢেকে দেওয়া রয়েছে। ১৯ মার্চ/২০২৩ তারিখে ইস্যুকৃত নিয়োগপত্রটিতে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ঢাকার উত্তরা উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইডটি সচল নয়। গত বছরেও এধরনের দুটি নিয়োগপত্র হাতে এসেছিল। তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন বলে জানান।