• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগে থানায় মামলা

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের অসতর্কতামূলক সিজার ও চিকিৎসাসেবায় অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত সূর্যের হাসি ক্লিনিকের ওই ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা হয়েছে।

বুধবার (৫ এপ্রিল) নবজাতকের বাবা মো. রওশন সরকার নিজে বাদী হয়ে দুইজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওই মামলা দায়ের করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচন্ডী ইউনিয়নের মাষ্টারপাড়ার আজিজুল হকের ছেলে রওশন সরকার রাজু। গত সোমবার সকালে তাঁর স্ত্রী চাঁদনী আক্তারের প্রসব বেদনা শুরু হয়। এ অবস্থায় তাকে ওইদিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের সূর্যের হাসি ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে (প্রসূতি) ওই ক্লিনিকের তৃতীয় তলায় এক নম্বর কক্ষে ভর্তি করানো হয়।

পরবর্তীতে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. নার্গিস আক্তার ওই প্রসূতিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিজারের পরামর্শ দেন। ওই দিনই বিকেল পাঁচটায় চিকিৎসক নার্গিস আক্তার তাঁর স্বামী চিকিৎসক মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় প্রসূতি চাঁদনী আক্তারের সিজান করেন। সিজারের মাধ্যমে প্রসূতি একটি কন্যা সন্তান প্রসব করানো হয়। কিন্তু নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে ক্লিনিকের চিকিৎসক নবজাতককে দ্রুত রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

এ সময় নবজাতকের পরিবারের লোকজন দেখেন সদস্য ভূমিষ্ট কন্যার নাড়ি ভূড়ি বের হয়ে গেছে। এতে তাদের মনে সন্দেহ হয়। এ অবস্থায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কোন রকম নিয়মনীতি না মেনে ছাড়পত্র ছাড়াই নবজাতকসহ প্রসূতিকে জোরপূর্বক ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়। এতে অনেকটাই নিরূপায় হয়ে নবজাতকের বাবা রওশন সরকার বাধ্য হয়ে রাত আনুমানিক আটটার সময় একটি মাইক্রোবাসযোগে প্রসূতি ও নবজাতককে নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যান। সেখানে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতককে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় সূর্যের হাসি ক্লিনিকে ভর্তি করতে বলেন।

এরপর ওই দিন রাত ১১টার দিকে আবার প্রসূতি ও নবজাতককে সৈয়দপুর সূর্যের হাসি ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক নবজাতককে কোন রকম চিকিৎসা দেননি।

এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে সূর্যের হাসি ক্লিনিকে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে। আর নবজাতক মৃত্যুর সংবাদ অল্প সময়ে গোটা শহরের চাউর হয়ে পড়ে। এতে প্রসূতির পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা ওই ক্লিনিকে এসে ভীড় করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল রায়হান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো.আমিনুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম দ্রুত ওই ক্লিনিকে পৌঁছে নবজাতকের পরিবারের সঙ্গে সার্বিক বিষয়ে কথাবার্তা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এরপর নবজাতকের বাবা নিজে বাদী হয়ে সূর্যের হাসি ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. নার্গিস আক্তার এবং ডা. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বুধবার সকালে নবজাতকের লাশের ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসক দম্পতি ডা. নার্গিস আক্তার ও ডা. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হয় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদার সাথে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জনের নির্দেশে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ