• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

নীলফামারীতে ক্রেতাদের সমাগমে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে ঈদের বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের সমাগম। করোনা অতিমারীর প্রকোপে গত দুই বছর ঈদের বাজার সরগম না থাকলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘঠেছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটা করতে এসে দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন।
জেলা শহরের বড় বাজার, কুন্ডুমার্কেট, মকবুল হোসেন সুপার মার্কেট, পৌর সুপার মার্কেট, এবাদত প্লাজা, স্মৃতি গার্মেন্টস, রকসি ক্লথ স্টোর, সিমলা গার্মেন্টস ও মুরাদ আলী প্লাজা ঘুরে ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান শুরু থেকে ক্রেতা সমাগম কম থাকলেও বর্তমানে তা অনেকটাই বেড়েছে। নিজেদের পছন্দের জামা-কাপড়, প্রসাধনী ও জুতা সেন্ডেল কিনিতে বিভিন্ন দোকানে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। তবে দাম বেশি হওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত পরিবারের মানুষ পছন্দের কেনাকাটা করতে হিমশিম খাচ্ছে অনেকে।
জেলা শহরের বড় বাজারের কাপড়ের দোকান ঘুরে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রতিটি দোকানে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম দোকানগুলো। বেচাকেনা ভাল হওয়ায় খুশি দোকানদাররা। নতুন জামা-কাপড় ও জুতার পাশাপাশি কসমেটিকস্ দোকানগুলোতেও ভিড় দেখা গেছে। তবে সব পণ্যের দামই দোকানিরা অনেক বেশি নিচ্ছেন এমন অভিযোগ ক্রেতাদের। গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে অনেক দোকানে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট মূল্যের ছাড়।
এদিকে, পৌর শহরের নিউবাবু পাড়ার গৃহিনী আফরোজা বেগম জানান, অল্প আয়ের মানুষের জন্য বর্তমানে উর্দ্ধগতির বাজারে কেনাকাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু অসাধু কাপড় ব্যবসায়ী বঙ্গ বাজার ও ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট আগুনে পুড়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে সাধারন মানুষের কাছে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই।
ওই বাজারের স্মৃতি গার্মেন্টস এর মালিক মো. মকবুল হোসেন জানান, ‘সাধারণত শবে বরাতের পর থেকেই কেনাকাটার শুরু হয়। তবে এ বছর একটু দেরিতেই শুরু হয়েছে। রোজার প্রথম দশদিন অনেক ক্রেতা বাজার যাচাই বাচাই ও জামাকাপড় দেখেন। তবে গত বছরের চেয়ে এবার বেচাকেনা করে মহাজনের বকেয়াসহ কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আল্লাহ্ চাইলে কিছু লাভ থাকবে।
তিনি বলেন, গত বছর করোনার সময় হাত কপালে উঠেছিল। সারা মাস বেচাকেনা করে পরিবারের খরচতো দূরের কথা কর্মচারীর বেতন দিতে পারিনি। আর এ বছর যতই ঈদ এগিয়ে আসছে ততই বিক্রি বাড়ছে। এখন গড়ে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে। রমজান শুরু থেকে বাজারে বেশি বিক্রি হয় শিশু ও নারীদের জামা-কাপড়।’
জেলা শহরের ডাল পট্টি রোড সংলগ্ন চন্দন বস্ত্রলায়ের মালিক তুলশি চরন রায় হাফ ছাড়িয়ে বলেন,‘এই দ্রব্য মুল্যের বাজারে সাধ্যের মধ্যে কিছু সংখ্যক লোকজন কাপড় নিতে আসছে। গত বছর করোনার কারনে বেচাকেনা হয়নি, এবার মোকামেই দাম বেশী। ক্রেতারা পরিবারসহ বাজারে আসলেও চড়া বাজার দেখে মন খারাপ করে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দাম একটু কম হলে ভালই ব্যবসা হতো।’
সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের আজিজুল হক কাপড় কিনতে এসে বলেন, ‘ঈদের আর পাঁচ সাত দিন বাকী এ জন্য বাজারে ক্রেতার অনেক ভিড়। বাড়ীর ছোট ছেলে মেয়ে ও দুই নাতিসহ নিজের জন্য জামা-কাপড় কিনতে এসেছি। সব কাপড়ের দাম অনেক বেশি। তাই কম করে কোন রকমে শিশুদের জামা কাপড় কিনলাম। নিজেরটা আরো দুইদিন পরে কিনবো।’
একই মার্কেটে দেখা হলে ক্রেতা শেলিনা বেগম বলেন, ‘সাতদিন আগে যে কাপড় ৬০ টাকা গজ ছিল, আজ তা ৯০-৯৫ টাকা গজে কিনতে হচ্ছে। ৮ হাজার টাকা নিয়ে এসেছি দুই মেয়ের থ্রি-পিচ ও আমার কাপড় কিনতে। কিন্ত গজ প্রতি ৩০-৩৫ টাকা বেশী দাম যাচ্ছে দোকানদার। দুই মেয়ের থ্রি-পিচ কেনাতেই সব টাকা শেষ। অল্প আয়ের মানুষের বর্তমান বাজারে শপিং করা হয় না।
শহরের নাম করা কয়েকটি গার্মেন্টেস এর মধ্যে একটি অন্যতম হলো জেলা শহরের ‘রকসি ক্লথ স্টোর’। সেখান থেকে নিয়মিত জামা, থ্রি-পিচ, সার্ট, প্যান্ট ও গজের কাপড় কেনেন বাবু পাড়ার বাসিন্দা হাফিজা আকতার।  তিনি বলেন, ‘এক মাস আগে যে কাপড়ের গজ ছিল ১৩০ টাকা, এখন সেগুলোর দাম ১৮০ টাকা দাম চাচ্ছে। এমন দাম হলে সাধারন মানুষ কীভাবে ঈদের কেনাকাটা করবে।’
ওই দোকানের মালিক জালাল উদ্দিন বলেন, মার্কেটে দাম বেশী হলে আমাদের করার কিছুই নেই। ঢাকায় এক গজ কাপড় ১২০ টাকা কিনে নীলফামারী আসা পর্যন্ত গজ প্রতি একটা খরচ আছে। এদিকে, দোকানের বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীর বেতন আছে। এসব খরচ পরিশোধ করে এবার কিছু লাভ করা যাবে। তবে বাজার কম হলে বিক্রি বেশী হয়, এতে লাভও বেশী হয়। আমার মতে বাজার কম থাকুক সাবই কিনতে পারলে আমাদের ক্ষতি নাই বরং বিক্রি বেশী হলে লাভ বেশী হয়।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুক্তারুল আলম জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ শপিংমল ও বিপণিবিতানসহ মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল চলছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ