• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

জলঢাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রদান

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর জলঢাকায় একটি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রদানে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ রাষ্ট্রায়ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেড মীরগঞ্জহাট শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে। উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে শাখা ব্যবস্থাপক মনছার আলী ওই বেতনভাতা প্রদান করেছেন।

অভিযোগ মতে, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জহাট ডিগ্রি কলেজের চলমান একটি মামলায় গত ১৪ মাস থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। উচ্চ আদালতের বিচারক সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজ সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে বেতন-ভাতাদি প্রদানের নির্দেশনা দেয়। মামলাটির সেটিই ছিল সর্বশেষ আদেশ। সে আদেশ উপেক্ষা করে মামলার বাদির প্রতিপক্ষ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার মিজানুর রহমান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের যৌথ স্বাক্ষরে বেতন-ভাতা ছাড় করেন শাখা ব্যবস্থাপক।

সূত্রমতে, ২০২২ সালের ৭ জুলাই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধক্ষের দাবিদার মিজানুর রহমানের উচ্চ আদালতে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষরের অনুমতি চেয়ে একটি পিটিশন দায়ের করেন। এ পিটিশনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২৪ জুলাই উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে একটি মামলা দায়ের করেন মীরগঞ্জহাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবুজার রহমান (পিটিশন নম্বর ৫৫২)। অধ্যক্ষ আবুজার রহমানের এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলা চলাকালীন সময়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে বেতন-ভাতা প্রদানের আদেশ প্রদান করেন। মামলার পাঁচ নম্বর বিবাদি সোনালী ব্যাংক মীরগঞ্জহাট শাখা ব্যবস্থাপকের অনুকুলে সে আদেশ জারি করা হয়। ওই মামলায় সেটিই ছিল আদালতের সর্বশেষ আদেশ।

মামলার বাদি অধ্যক্ষ আবুজার রহমানের অভিযোগ, আদালতের ওই আদেশ উপেক্ষা করে গত ১৮ এপিল (মঙ্গলবার) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার মিজানুর রহমান এবং কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের যৌথ স্বাক্ষরে কলেজের ৪৬জন শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ৪২ জনের দাখিল করা হয় নয় মাসের (জুলাই ২০২২ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত) বেতন-ভাতার বিল। ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মনছার আলী আদালতের আদেশ এবং বেতন-ভাতা প্রদানে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ছাড় করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক বেতন-ভাতা প্রদানে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজার মনছার আলীকে আমি নিজে আদালতের আদেশ অবহিত করে চলমান মামলার কাগজপত্র প্রদান করেছি। এরপরও তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরে বেতন-ভাতা ছাড় করে আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন। এছাড়া এমপিও সিটে নাম থাকলেও বৈধ কোন কাগজপত্র ছাড়াই অধ্যক্ষসহ তিনজন কর্মচারীকে বাদ দিয়ে বেতন-ভাতা ছাড় করে নীতিমালা ভঙ্গ করেছেন।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার) বলেন, ‘কলেজের নতুন কমিটি হয়েছে। এর ১৩ দিন পর শিক্ষক কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-বিল প্রদান করা হয়েছে। সভাপতি এবং আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে স্বাক্ষর করে ব্যাংকে বিল জমা দেই। ব্যাংক আইনী পর্যালোচনা করে দাখিলকৃত বেতন বিল প্রদান করেছে।’

মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যত মামলা ছিল সেগুলো পূর্ব কমিটির সময়ে। নতুন কমিটি আসায় সব মামলা অকার্যকর। সেহেতু এখানে আদালত অবমাননার কোন বিষয় আসে না।’

সোনালী ব্যাংক লিমিটেড মীরগঞ্জহাট শাখার ব্যবস্থাপক মনছার আলী আদালতের ওই আদেশ অবহিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘জটিলতার প্রেক্ষিতে ব্যাংকের একজন প্যানেল আইনজীবীর মতামত নেওয়া হয়। ওই আইনজীবীর মতামতের ভিত্তিতে মিজানুর রহমান এবং সভাপতি আবুল কালাম আজাদের যৌথ স্বাক্ষরে ওই কলেজের দাখিল করা ৪২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতর-ভাতা ছাড় করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ