• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

চালকের কানে মোবাইল ফোন, প্রান গেল প্রসূতি মা ও নবজাতকের

বিশেষ প্রতিনিধি।। ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ১২টা ছুঁই ছুঁই। প্রসব বেদনায় ছটফট করা গৃহবধূ শারমিন আকতারকে (২৭) নিয়ে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলছে সিএনজি। এ সময় চালক বেলাল হোসেন কানে মোবাইল ফোন আর এক হাতে স্টিয়ারিং। বিপরীত দিক থেকে আসা ইজিবাইকের আলোতে চালক সামনে ব্যাটারিচালিত রিক্সা ভ্যানকে ওভারটেক করতে না পেয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। ফলে সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন গর্ভবতী শারমিনসহ আরো তিন যাত্রী।

বুধবার দুপুরে এসব কথা বলছিলেন সিএনজিতে থাকা শারমিনের খালাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম। আশরাফুল আরো জানান, এ সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি মাইক্রোবাস শারমিনকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পেট ফেঁটে নবজাতক (কন্যা শিশু) ভূমিষ্ট হয়। এ সময় মাইক্রোবাসের বাম্পারে আটকে যায় প্রসূতি শারমিনের পরনের কাপড়। কিছুক্ষণ পরেই জানতে পারি দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি আমার বোনকে প্রায় দুই কিলোমিটার টেনে নিয়ে সৈয়দপুরের ঢেলাপীর নামক স্থানে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

গত শনিবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়কের সংগলশী ইউনিয়নের শিমুলতলী নামক স্থানে। প্রসব বেদনায় ডোমারের ওই গৃহবধুকে একটি সিএনজি (থ্রী হুইলার) যোগে সৈয়দপুর শহরের সাজেদা ক্লিনিকে সিজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দ্রুতগতির সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওই স্থানে সামনের একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে উল্টে যায়। এ সময় পেছন দিক থেকে একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হন শারমিনসহ ভূমিষ্ট হওয়া গর্ভের সন্তান। দূর্ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন শারমিনের সঙ্গে থাকা কন্যা সন্তান ইলমা মনি (৫), মা কোহিনুর বেগম (৫০), খালাতো ভাই আশরাফুল ইসলামসহ (২৩) তিনজন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালে এবং পরে মনি ও কোহিনূরকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, ডোমার পৌরসভার চিকনমাটি এলাকার কাচারি পাড়ার নাজিম উদ্দীনের মেয়ে শারমিন আখতার। আট বছর আগে সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ আবাসনের হায়দার আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম লিটনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। লিটন সৈয়দপুর শহরে দর্জির কাজ করেন। ইলমা মনি নামে ৫ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে আসার পর শারমিন ডোমারে মায়ের কাছে অবস্থান করছিলেন। শনিবার রাতে প্রসব বেদনা উঠলে তাকে সৈয়দপুরের সাজেদা নামক একটি ক্লিনিকে নেওয়ার জন্য সিএনজি যোগে রওনা হন। পথে মধ্যে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খুরশিদ আলম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করে উত্তরা ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাঁরা নবজাতককে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে। এদিকে নবজাতকটিকে যেখানে পাওয়া গেছে সেখান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেছে মায়ের ছিন্নভিন্ন লাশ।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বাচ্চাটাকে এখানে নিয়ে আসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তখন বাচ্চাটির মাথায় আঘাত ছিল। শরীর ছিল রক্তাক্ত। বাচ্চাটাকে এখানে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। শারমিনের লাশের সুরতহাল করা সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, মাইক্রোবাসের ধাক্কায় প্রসূতির পেট ফেটে গিয়ে নবজাতক ঘটনাস্থলে ভূমিষ্ট হয়েছে।

তিনি জানান, দূর্ঘটনাস্থল নীলফামারী সদর থানার অধীন কিন্তু মাইক্রোবাসটি ওই প্রসূতিকে টেনে নিয়ে সৈয়দপুর থানা এলাকায় ফেলে দেওয়ায় সুরতহাল প্রতিবেদন আমাদের করতে হয়েছে। পরে মরদেহ ও প্রতিবেদনটি নীলফামারী সদর থানার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শারমিনের চাচা আজিম উদ্দীন রোববার রাতে নিজে বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ১০৫ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় মাইক্রোবাসের অজ্ঞাত চালককে আসামী করা হয়েছে। এদিকে নিহত মা ও নবজাতককে রোববার বিকেলে ডোমারের পিত্রালয়ের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, দূর্ঘটনায় পতিত সিএনজি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। অপরদিকে মাইক্রোবাসটি সনাক্তকরণে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অতিদ্রুত সনাক্ত করে গাড়ীসহ চালককে আটক করতে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ