• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বিএনপি নেতা রিজভীর বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সিসি নিউ ডেস্ক।। গোপালগঞ্জে দায়ের হওয়া মানহানি মামলায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আজ বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শেখ মোহাম্মদ রুবেল এ পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী পাঁচটি বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ২৩ জনের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের মধ্যে গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন সরদার ও তাঁর বাবা প্রয়াত আবুল হাসেম সরদারের নামও উল্লেখ করেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে রিজভী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন। জামালপুরের নুর রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্যও করেন রিজভী। দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে এ ধরনের অসত্য বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের সংবাদটি ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর দৈনিক যুগান্তরের অনলাইনে ও পরদিন যুগান্তরের প্রথম ও ১৪ নম্বর পৃষ্ঠায় আওয়ামী লীগে ২৩ জন যুদ্ধাপরাধী আছে শিরোনামে প্রকাশিত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দেলোয়ার হোসেন সরদার বাদী হয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম ও প্রকাশক সালমা ইসলামকে আসামি করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।

তদন্ত শেষে সিআইডি রুহুল কবির রিজভীকে অভিযুক্ত করে এবং দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশক সালমা ইসলাম ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলমকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। আজ বুধবার মামলায় রুহুল কবির রিজভীর আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হাজির না হওয়ায় বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ও গোপালগঞ্জ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি দেলোয়ার হোসেন সরদার বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২০১৮ সালে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেন। তিনি ওই সংবাদ সম্মেলনে ভুয়া পাঁচটি বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে আমি ও আমার বাবা আবুল হাসেম সরদারকে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে ও মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী বলে আখ্যায়িত করেন। আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ও আমার বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তাকারী। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী এম এ আলম সেলিম বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আদালতে হাজির হতে পারেননি, এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। তবে আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, তিনি আদালতে হাজির হওয়ার তারিখের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। এ ধরনের মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। বাস্তবে এ ধরনের মামলা হয়রানি ছাড়া আর কিছু না। রুহুল কবির রিজভীর মতো নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা হওয়া খুব আশ্চর্যজনক।

আলম সেলিম আরও বলেন, যে বিষয় নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে সেটি আইনত চলে না। মামলায় বলা হয়েছে, রুহুল কবির রিজভীর কথায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানহানি হয়েছে। কারও সম্মানহানি যদি হয়, তাহলে আইনের বিধান মোতাবেক তাঁকেই মামলা করতে হয়। অথবা তাঁর অনুমতি নিয়ে মামলা করতে হয়। যিনি মামলাটি করেছেন, তিনি নিজে ব্যক্তি না এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই মানহানির মামলাটি করেছেন।

উল্লেখ্য, এ মামলায় গত ১৮ এপ্রিল রুহুল কবির রিজভী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান। এরপর ৯ মে মামলাটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। ২২ জুন এ মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু রুহুল কবির রিজভী আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ রিজভীর জামিন আবেদন বাতিল করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মোহাম্মদ রুবেল তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

উৎস: আজকের পত্রিকা


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ