• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

বাংলা ভাষার চেয়ে মিষ্টি ভাষা আর নাই- মুহাম্মদ জাফর ইকবাল

সিসি নিউজ।। নীলফামারী শহরে রয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ক্ষুদে কবি। ২০১৫ সাল থেকে ধাপে ধাপে তৈরী হওয়া এসব কবি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। তারা প্রতিনিয়ত লিখছে ছড়া, কবিতা। জেলা শহরের ভিশন ২০৪১ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে তৈরী হয়েছে এসব কবি।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হলো ষষ্ঠ দফায় মিলন মেলা। অনুষ্ঠানে ১০ সহস্রাধিক ক্ষুদে কবির সঙ্গে অংশ নেন দেশ বরেণ্য ব্যক্তিরা। এসময় তাঁরা ক্ষুদে কবিদের লেখা কবিতা, ছড়ার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন দেশ বরেণ্য কথা সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেশ বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সংসদস সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কবি ও সাহিত্যিক আখতার হুসাইন, অভিনেতা ও সঙ্গীত শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু, কবি ও শিশু সাহিত্যিক সুজন বড়ুয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন ভিশন ২০৪১ এর প্রধান সম্বয়কারী ওয়াদুদ রহমান।

প্রধান অতিথি নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ভিশন ২০৪১ এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘করোনার জন্য আমাদের এ কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। আবারো আমরা শুরু করলাম। এবারো আমরা বিপুল সাড়া পেয়েছি। আশা করছি ভবিষ্যতেও আমরা এটি চালিয়ে যাব। ’ ক্ষুদে কবিদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন, ‘বছরে একবার ছড়া কবিতা লিখলে হবে না, নিয়মিত লিখতে হবে। এ জন্য আমরা প্রতি তিন মাসে একটি করে পত্রিকা বের করবো। সেখানে তোমাদের ছড়া কবিতা ছাপা হবে। এটা আমাদের নতুন উদ্যোগ।’ এসময় তিনি ২০১৫ সালে গঠিত ভিশন ২০২১ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির আংশিক নাম পরিবর্তন করে ভিশন ২০৪১ ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক কথা সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক শিক্ষাবিদ মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘তোমরা যে অনেক সুন্দর কবিতা লিখতে পেরেছ তার কারণটা হচ্ছে তোমরা যে ভাষায় কথা বলো তা বাংলা ভাষা। পৃথিবীতে এর চেয়ে মিষ্টি ভাষা আর নাই। এটা আমার কথা না, এটা সারা পৃথিবীর মানুষ মিলে ঠিক করেছে। তোমরা পৃথিবীর সবচেয়ে মিষ্টি ভাষায় কথা বলো। এটা এক নম্বর কারণ। আরেকটা কারণ বাংলা ভাষা নরম একটা ভাষা। ইংরেজী ভাষা শক্ত ভাষা, ওরা যেভাবে নিয়ম করে দিয়েছে সেভাবে বলতে হবে। বাংলা ভাষার শব্দগুলি যেভাবে খুশি আমি আগে নিব, পিছে নিব, কবিতা লিখব, এজন্য তোমরা বেশি কবিতা লিখ। কাজেই তোমাদেরতো ক্রেডিট আছেই, তার সাথে আমাদের ভাষাটারও অনেক বড় একটা গুরুত্ব আছে। এ ভাষায় কবিতা লেখা খুবই সহজ।

শিশুদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা সবাই মিলে কবিতা লিখেছ, আমার কাছে বইগুলো আছে। আমি বসে বসে তোমাদের লেখা কবিতা দেখছিলাম। কি সুন্দর কবিতা, পড়লে মনটা ভরে যায়’। আটিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ঠিক করেছে যে তুমি যদি শুধু মুখস্ত করো, শুধু কিছু তথ্য মাথার মধ্যে নিয়ে হাটাহাটি করো, তোমার ভিতরে যদি কোন ক্রিয়েটিভিটি না থাকে তাহলে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেজেন্স তোমাকে ফেলে দিবে, তোমার প্রয়োজন নাই। পৃথিবীতে এখন শুধু সেইসব মানুষেরাই টিকে থাকবে যারা হচ্ছে সৃজনশীল। যারা গান গাইতে পারে, যারা কবিতা বলতে পারে, যারা অভিনয় করতে পারে, যারা পাঠ্যবই মুখস্ত করার বাইরে কাজ করতে পারে। কাজেই তোমরা এখন মনে রাখবে যে আমি পৃথিবীতে অপ্রয়োজনীয় হয়ে যেতে চাই না। আমি পৃথিবীতে প্রয়োজনীয় হয়ে থাকতে চাই। তার মানে লেখাপড়ার বাইরে যে জগৎ আছে সেই জগতে তোমাকে যেতেই হবে। যদি না যাও তোমাকে যে সফটওয়ার দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিবে। সে সফটওয়্যারটার দাম মাত্র ২০ ডলার। এখন কি তুমি ২০ ডলারের থেকে অমূল্যবান একটা জিনিষ হতে চাও, নাকি সত্যিকার মানুষ হতে চাও। সত্যিকার মানুষ হতে চাইলে লেখাপড়ার বাইরে যা যা আছে সবকিছু করবে, যে যাই বলুক’।

তিনি শিশুদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ‘তোমাদেরকে দেখে আমার মনটা ভরে গেল। প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে একটা করে ব্যাটারী থাকে। আমার ভিতরেও একটা ব্যাটারী আছে। আমার ব্যাটারীটা চার্জ করতে হয় মাঝে মধ্যে। আমি কিভাবে চার্জ করি, আমি যখন এরকম একটা স্টেজে বসে সামনে হাজার হাজার বাচ্চাকে দেখি, তখন আমার ব্যাটারী চার্জ হতে থাকে। তোমরা সবাই মিলে আমার ব্যাটারী চার্জ করে দিয়েছ। ধন্যবাদ সবাইকে। অনেকদিন আমার ব্যাটারী চলবে এখন থেকে, ভালো থেকো।

DCIM105MEDIADJI_0652.JPG

কবি ও শিশু সাহিত্যিক আখতার হুসাইন বলেন, ‘এরকম আয়োজন আমি বিশ্বের কোথাও দেখিনি। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে বা তার অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কে সারা দেশে এরকম একটা কথা প্রচলিত আছে যে, তারা সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ড খুব বেশি পরিচালনা করে না। এ কথাটা যখন শুনি তখন খারাপই লাগে। আমি বলতে চাই এই নীলফামারীর আরো আসন আছে তারা তো দেখবেনই। তারা অনুসরণ করবেন। সারা দেশের যত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বা যত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী আছেন, তারা দেখে যান। এই মডেলটাকে অনুসরণ করুন। আলোকিত বাংলাদেশ যদি আমরা চাই, আমরা যদি স্মার্ট বাংলাদেশ চাই, তাহলে শুধু বিল্ডিং তৈরী করে, রাস্তা-ঘাট তৈরী করলে সব কিছু হবে না। মানষিকতা পরিবর্তণ দরকার। মানষিকভাবে আমাদের সমৃদ্ধ হতে হবে।’ এসময় তিনি তাঁর লেখা একটি ছড়া পাঠ করেন।

অভিনেতা ও সংগীত শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে নীলফামারী। কারণ যেই শহরে, যে জেলায় এতো তরুণ কবি থাকে, লেখক থাকে, এতো চমৎকার করে নৃত্য পরিবেশন করলো, সুন্দর করে গান করলো সেই শহর বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের চাইতে একটু হলেও এগিয়ে আছে’। এমন তিনি তাঁর কণ্ঠে গান পরিবেশন ও অভিনয় করে দেখান।

কবি ও শিশু সাহিত্যিক সুজন বড়ুয়া বলেন, ‘ছড়া কবিতা নিয়ে বিশ্বে এতো বড় আয়োজন কোথাও আছে আমার জানা নেই। এটা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ষষ্ঠবারের মতো এ আয়োজনটি হচ্ছে। ১৬ হাজার ছড়া কবিতা দিয়ে আমরা এ আয়োজনটি শুরু করেছিলাম, এখন ৩২ হাজারে উন্নিত হয়েছে ছড়া কবিতা লেখকের সংখ্যা। এটি আমাদের জন্য একটি বিরল ঘটনা, গৌরবের ঘটনা।’

সুজন বড়ুয়া আরো বলেন, ‘আমরা ঢাকায় সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে মানব পতাকা তৈরী করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছি, লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছি। গিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে আমাদের নাম উঠেছে। আমি প্রত্যাশা করি এই ছড়া কবিতা প্রতিযোগিতা আয়োজনের নামও গিনিজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে একদিন লিপিবদ্ধ হবে।’

ভিশন ২০৪১ এর প্রধান সম্বয়কারী ওয়াদুদ রহমান জানান, ২০১৫ সাল থেকে ষষ্ঠ বারের ন্যায় এমন আয়োজন হলো। এ সময়ে এক লাখ ১৪ হাজার ক্ষুদে কবির কবিতা ছড়া জমা পড়েছে সংগঠনে। এবারের আয়োজনে জেলা সদরের ৪৩৮টি স্কুল, মাদ্রাসার প্রথম থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের লেখা ১৮ হাজার কবিতা, ছড়া জমা পড়েছে। ওই ১৮ হাজারের মধ্য থেকে বাছাই করে ২৭০টি কবিতা ছড়ার ‘ভোর হলো, দোর খোলো’ এবং ‘আমাদের জাতির পিতা, আমাদের শ্রেষ্ট মিতা’ নামে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা।

শেষে ক্ষুদে কবি ও তাদের অভিভাবকসহ প্রায় ১২ সহস্রাধিক দর্শক শ্রোতার অংশগ্রহনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় সেখানে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ