সিসি নিউজ।। সারা বছরই কাঁদাপানি আর নোংরা পরিবেশ থাকে পুরো টার্মিনাল জুড়ে। ফলে যাত্রীদের টার্মিনালে নামতে আপত্তি থাকায় চালকরা মহাসড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
অপরদিকে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে টার্মিনাল সংস্কার না করায় মাদকাসক্তের দখলে গেছে মূল ভবনটি। এছাড়া টার্মিনালের পূর্বাংশের পুরোটাই দখলে নিয়েছে খোয়া ও বালু ব্যবসায়ীরা। এ চিত্র নীলফামারীর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের।
সূত্রমতে, সৈয়দপুরের এ বাস টার্মিনাল থেকে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পার্বতীপুর, নীলফামারীর বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল করে থাকে। টার্মিনালটি নির্মানের পর থেকে মেরামত ও সংস্কার না করায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে বাসযাত্রীরা গন্তব্যে পৌছাতে টার্মিনালে আসেন, কিন্তু টার্মিনাল থেকে বাসে উঠতে পারছেন না। তারা মহাসড়কের ওপরে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করেন বাসের জন্য। ফলে ব্যবহার না হওয়ায় এখন টার্মিনাল ভবনটি দিনে-রাতে ব্যবহার করছে মাদকসেবিরা।
অপরদিকে যাত্রী ও শ্রমিকরা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টার্মিনালের বাইরে ও মসজিতের শৌচাগার ব্যবহার করছে। এতে বিশেষ করে মহিলা যাত্রীরা পড়ছে চরম বিড়ম্বনায়।
নীলফামারী জেলা বাস, মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, প্রায় ২২ বছর আগে টার্মিনালটি সৈয়দপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে জেলা পরিষদ। পৌরসভা প্রতি বছরই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের অর্থবরাদ্দ রাখলেও কোনো কাজই করেননি। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটেও সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য ২ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কিন্তু অর্থবছরের শেষ দিকে এসেও এখনো এই টার্মিনাল নির্মাণের কোন ঈঙ্গিত নেই। ফলে বাসচালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বাস মালিকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। পৌরসভার কাছে দাবি আদায়ে অবশেষে রাস্তায় নামতে বাধ্য হতে হবে।
নীলফামারী জেলা বাস, মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ হোসেন শানু বলেন, টার্মিনালটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এবং পূর্ব দিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় রাতে টার্মিনাল চত্বরে বাস রাখা যাচ্ছে না। নিরাপত্তা না থাকায় বাসের যন্ত্রাংশ, ব্যাটারী চুরি হচ্ছে অহরহ। এতে মালিকগণ চরম ক্ষতির সম্মুখীণ হচ্ছেন। পৌরসভার প্রতি আর আমাদের ভরসা নেই। তাদের কথা কাজে কোন মিল নেই। অথচ টোল ঠিকই আদায় করে নিচ্ছে। তিনি বলেন, পৌরসভা শহরের জনৈক বালু ও খোয়া ব্যবসায়ীদের টার্মিনালের পূর্বাংশ ইজারা দিয়েছেন। ওই ব্যবসায়ীরা দাপটের সাথে টার্মিনাল দখলে নিয়ে ব্যবসা করছেন। এছাড়া অব্যবহৃত ভবনটিতে মাদকসেবিদের অভয়াশ্রমে পরিনত হয়েছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, টার্মিনালে বালু বা খোয়া ব্যবসার জন্য কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এর আগেও একটি মহল জোর পূর্বক দখলে নেওয়ার খবর পেয়ে উচ্ছদ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে ব্যস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, টার্মিনালটি পৌরসভার দখলে থাকলেও জেলা পরিষদ কর্তৃক পৌরসভাকে হস্তান্তরের কোন কাগজপত্রাদি নেই।
সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবি জানান, মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে টার্মিনালটি আধুনিকমানের হিসাবে নির্মাণ করতে বাজেটে বরাদ্দ ধরা হয়েছে। তাছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করি চলতি বছরে বাস টার্মিনালের নির্মান কাজ শুরু হবে।
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. সিদ্দিকুল আলম জানান, টার্মিনালটি জরুরী মেরামত প্রয়োজন। মহাসড়কে যাত্রী উঠানামা করায় সড়কে ছোটখাটো দূর্ঘটনার পাশাপাশি ওই সড়কে মাঝেমধ্যে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। তাই এটি নির্মানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরবো।