• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

মে’র মধ্যেই গার্মেন্টসে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন

Garments Photoসিসি নিউজ: তৈরি পোশাক শিল্পে শতভাগ বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন হয়নি এখনও। তবে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সংস্থা বিজিএমইএ’র দাবি, এ পর্যন্ত ৮৫ ভাগ পোশাক কারখানায় বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকিগুলোও মে মাসের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করবে।

বিজিএমইএ’র দাবি, নতুন করে রপ্তানি আদেশ না থাকা ও সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় মালিকরা সাময়িকভাবে একটা চাপের মধ্যে রয়েছেন। এটা কাটিয়ে উঠে খুব শিগগিরই নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা সংগঠনটির।

সংগঠনটি বলছে, বিগত কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা পোশাক শিল্পের মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কারখানাগুলোর ৪০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ কমেছে। সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারায় কোটি টাকা লোকসানও গুনতে হয়েছে মালিকদের। হরতাল-অবরোধে গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ৩৭ দিনই শ্রমিকরা কাজ করতে পারেনি। আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, এয়ারফ্রেড, শিপেমন্ট ডিলে, পণ্য জাহাজীকরনের বাড়তি খরচসহ নাশকতায় ক্ষতির মুখে পড়ে পোশাক শিল্প। তাতে শিল্পের চেইন অব কমাণ্ড ধসে যায়। এছাড়া বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া, ক্রেতাদের আস্থা কমে গিয়ে রপ্তানি আদেশ স্থানান্তর হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ’র অভিযোগ, বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ চাওয়ার পরও মালিকরা এই সহায়তা এখনও পায়নি। আর কাজ না থাকার কারণে মূল বেতন দিতেই হিমশিম খাচ্ছে বহু কারখানা।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজীম জানান, বর্ধিত মজুরি শতভাগ বাস্তবায়ন হতে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সময় লাগবে মালিকদের। কারখানাগুলোতে এখন কাজ কমে গেছে। আবার বহু কারখানায় শ্রমিকদের কাজ দিতে পারছেন না মালিকরা। এখন অনেক নামকরা কারখানাই সাব কন্ট্রাকের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সাব কন্ট্রাকে কাজ করা তুলনামূলক ছোট কারখানাগুলো পরেছে বিপদে।

তবে শ্রমিকদের কথা বিবেচনা করে কাজের অর্ডার কমে যাওয়ার পরেও অনেকে সম্পদ বিক্রি করে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা এখনও কোনো ব্যাংকের সহায়তা পাইনি। সহজ শর্তে ঋণ পেলে বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হতো। সরকার পোশাক শিল্পে উৎসে কর কমিয়েছে। তবে কবে এটা বাস্তবায়ন হবে তা কেউ জানে না বলে জানান তিনি। দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমলেও এই শিল্পের নেতিবাচক প্রভাব কমেনি বলে জানান তিনি।

এদিকে শ্রমিক নেতা সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, এখনও বহু কারখানা তাদের মজুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আর যারা এই বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সাব কন্ট্রাক নেওয়া প্রতিষ্ঠান। তবে শিগগিরই বর্ধিত মজুরির বাস্তবায়ন চান এই শ্রমিক নেতা।

আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল’র বাংলাদেশেস্থ মহাসচিব রায় রমেশ চন্দ্র বলেন, এখনও অধিকাংশ পোশাক কারখানা তাদের বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন করেনি। এটা দু:খজনক। তবে মজুরি বাস্তবায়নে বিদেশি ক্রেতা, মালিকসহ সরকার এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির বাস্তবায়ন নিয়ে ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ডে’র নিরপেক্ষ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন বলেন, পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম বেতন কাঠামো তৈরি করা ছিলো মজুরি বোর্ডের কাজ। বোর্ড এই কাজটি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, ঘোষণার পর দিন থেকে বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন হওয়া দরকার ছিলো। এ জন্য ক্রেতা মালিক, সরকারসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পোশাকশিল্পের উন্নয়নে শ্রমিকরাই বড় ভূমিকা রাখে। তাই মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও শ্রমিকদের স্বার্থে শিগগিরই এই মজুরি বাস্তবায়ন করার পক্ষে মত দেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ