• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সৈয়দপুরে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইট দিয়ে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাঁশের কঞ্চি ও ইট দিয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনে অভিযোগ মিলেছে। শহরের আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম রুহুল ইসলাম মাদ্রাসায় ওই শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে।

নির্যাতনকারী মাদ্রাসাটির নাজেরা বিভাগের শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ। আর নির্যাতনের শিকার শিশু শিক্ষার্থী হলো ওই মাদ্রাসার একই বিভাগের মো. আতিক হাসান (১১)। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিক্ষার্থীর বাবা একরামুল হক নিজে বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই নির্যাতনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সৈয়দপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকার ওয়াপদা সরকারপাড়ার মো. একরামুল হকের ছেলে আতিক হাসান (১১)। সে আল -জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম রুহুল ইসলাম মাদ্রাসায় একজন আবাসিক শিক্ষার্থী। প্রায় এক মাস আগে তাকে ওই মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগের ভর্তি করানো হয়েছে। ঘটনার দিন গত ৩০ জুন নামাজের কাতারে সামান্য ভুল করা নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ্ শিশু শিক্ষার্থী আতিক হাসানকে বাঁশের বেত দিয়ে তার দুই হাত ও পায়ে, দুই কানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদম মারপিট করে। ওই শিক্ষকের এলোপাতারি মারপিটে শিশু শিক্ষার্থীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাঁধাসহ জখম হয়।

শুধু তাই নয় ইট দিয়ে আঘাত করে শিশু শিক্ষার্থীর বাম পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে করে ওই শিক্ষার্থীর বাম পা ফুলে যাওয়াসহ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে ও চলাফেরা করতে পারছে না। কিন্তু তারপরও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিংবা নির্যাতনকারী শিক্ষক শিশু শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিষয়টি অবগত করেননি। পরবর্তীতে গত সোমবার (১ জুলাই) রাত নয়টায় শিশু এক শিক্ষকের মোবাইল ফোন থেকে কল করে তার অসুস্থতার কথা জানায় এবং তাকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। শিশু পুত্রের মোবাইল ফোন পেয়ে তাঁর বাবা ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ী একরামুল হক মাদ্রাসায় এসে তাকে সঙ্গে করে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতে চিহ্ন দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে শিক্ষক আব্দুল্লাহ কর্তৃক তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনে কথা জানায়।

পরবর্তীতে বাবা একরামুল হক ও মা খাদিজা বেগম তাদের অসুস্থ শিশু সন্তানকে আজ মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকালে প্রথমে সৈয়দপুর থানা নিয়ে যান। পরে থানা পুলিশ তাদের শিশুটির চিকিৎসার পরামর্শ দিলে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর এ ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থীর বাবা একরামুল হক বাদী হয়ে শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

থানা চত্ত্বরে বসে শিশুটির বাবা তাঁর পুত্রের নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এ সময় তিনি বলেন, আমি আমার শিশু সন্তানকে কোন দিনও গায়ে হাত তুলেনি। অথচ আজ সামান্য ভুলে একজন শিক্ষক আমার ছেলেটিকে নির্মমভাবে মারপিট করে জখমপ্রাপ্ত করেছেন। আর তাঁর মা খাদিজা বেগম শিশু সন্তানের নির্যাতনের ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এ সময় শিশুটির নানী গোলাপী বেগম (৬০) বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে শিশুটিকে এমন নির্দয়ভাবে মারতে পারেন কিভাবে?

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ এর সঙ্গে মাদ্রাসার মহাপরিচালকের অফিস কক্ষে বসে কথা হয়। তিনি বলেন, ওই শিশু শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় নিয়মিত ঠিকভাবে পড়াশুনা করে না। এছাড়া কথাবার্তাও খুব আস্তে আস্তে বলে। এসব কারণে তাকে সামান্য শাসন করা হয়েছে মাত্র। বিষয়টি অভিভাবক কিংবা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কেন জানানো হয়নি এমন প্রশ্ন করা হলে তার কোন জবাব দেননি তিনি।

এ নিয়ে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম রুহুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক আলহাজ্ব মাওলানা মো. হারুন রেয়াজী জানান, ঘটনাটি আজ মঙ্গলবার সকালে আমি জেনেছি। শিশু শিক্ষার্থীকে মারপিট করে ওই শিক্ষক ভীষণ অন্যায় কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠান থেকে আজই ওই শিক্ষককে বহিস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহা আলম জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনা তদন্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ