• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি লুপলাইনের সংস্কার কাজ

রেজা মাহমুদ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলপথের এক হাজার ৪৪০ মিটার লুপলাইনের সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হয় প্রায় দুই বছর আগে। কিন্তু তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি কাজ। স্লিপার ও রেললাইন এলোমেলোভাবে বিছিয়ে দিয়ে কাজ ফেলে রেখে লাপাত্তা ঠিকাদার।
তিন দফা মেয়াদে কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৬০ শতাংশ। সর্বশেষ মেয়াদ বৃদ্ধির পর চলতি বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এ সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রেলপথটির সংস্কার কাজ এভাবে ফেলে রাখায় বছরে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় রেল কর্মচারীররা। অথচ এ বিষয়ে নজর নেই সংশ্লিষ্টদের।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ও ভারত থেকে আমদানি করা পাথর ওয়াগন থেকে ভেকুমেশিন দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকে পাথর লোড করার কারণে সৈয়দপুর স্টেশনের পূর্বপাশের লুপলাইনগুলোর দশা বেহাল হয়ে যায়। এতে প্রায়ই মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হতো। এ কারণে স্থানীয় রেলওয়ে দপ্তর ওই  লাইন চলাচলের জন্য অনুপোযোগী ঘোষণা করে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লুপলাইন সংস্কারের জন্য ২০২২ সালে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্র অনুযায়ী রেলওয়ে স্টেশনের উত্তরে রেলওয়ের সংকেত ঘর ও দক্ষিণে দুই নম্বর রেলক্রসিং পর্যন্ত এক হাজার ৪৪০ মিটার রেলপথ সংস্কারের জন্য সাত কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। দরপত্রের মাধ্যমে সংস্কার কাজটি পায় ঢাকার মেসার্স ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিএল) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির সাথে ২০২৩ সালে ৩১ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। এরপর তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে  চলতি বছরের নভেম্বরে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বর্তমানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৬০ শতাংশ।  তাই এ সময়ও কাজটি শেষ হওয়া সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়  রেলওয়ে স্টেশনের লুপলাইনের রেলপথে রেললাই, কাঠ ও সিমেন্টের স্লিপার এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে। কিছু জায়গায় রেললাইন বসানো হলেও লাগানো হয়নি ক্লিপ। বন্ধ রয়েছে সংস্কার কাজ।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি মালিকের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ না হওয়ায় তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় রেলওয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে কাজ শেষ করার তাগাদা দিলে তারা জানান ইলাসটিক রেল ক্লিপের (ইআরসি) সংকট রয়েছে। এলসি খোলার কাজ বন্ধ থাকায় তারা এই ক্লিপ আমদানি করতেও পারছে না। তাই এ সংস্কার কাজটি থমকে রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম রতন বলেন, ভৌগলিক দিক বিবেচনায় এ স্টেশনের লুপলাইনগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় ব্যবাসায়ীদের ট্রেনযোগে ভারত থেকে পাথরসহ আমদানিকৃত বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এ লাইগুলোতে রেখে লোড-আনলোড করা হয়। এছাড়া ট্রেনে করে দেশের অভ্যন্তরেও বিভিন্ন পণ্য আনা নেওয়ার কাজে এ লুপলাইনগুলো ব্যবহার করা হয়। এতে করে এখান থেকে প্রতিমাসে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয় করে রেলওয়ে। সেই হিসেবে বছরে প্রায় কোটি টাকা  আয় থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. সুলতান মৃধা বলেন, এক বছর মেয়াদে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ সম্পন্ন করেননি। এরপর তৃতীয় দফা চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়েছে। এই বর্ধিত মেয়াদেও কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে শংকা রয়েছে। সদিচ্ছা নিয়ে ঠিকভাবে কাজ করলে এক মাসেই কাজটি শেষ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ