• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে মজুরি কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় খাদ্যগুদামের শ্রমিক ছাঁটাই

সিসি নিউজ।। সরকার নির্ধারিতের চেয়ে কম মজুরি দেওয়ার প্রতিবাদ করায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে খাদ্যগুদামের ৬ জন শ্রমিককে বিনা নোটিশে ছাঁটাই করার অভিযোগ ওঠেছে৷ বৃহস্পতিবার সকালে খাদ্যগুদামে তাদের ছাটাই করা হয়েছে জানিয়ে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এতে সাময়িকভাবে খাদ্যগুদামে আসা ট্রাকগুলো থেকে চাল খালাসের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তাকে ডাকা হয়। তিনি আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, মো: খোকন আলী, মোখছেদুল,  নুর আলম, মো: সিরাজুল, জয়নুল ও মো. বাবুল নামের ৬ জন শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে ওই খাদ্যগুদামের মালামাল ওঠানো ও নামানোর কাজ করছেন। কিন্তু ওইদিন সকালে  কাজের জন্য এলে  তাদের ছাঁটাই করার কথা জানিয়ে কাজ করায় বাধা দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিয়াউল হক শাহ। তিনি আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী মো: খোকন আলী বলেন, সরকার ২০২৩ সালে ট্রাক থেকে মালমাল উঠানোর জন্য প্রতিটনে ১৩০ এবং  নামানো বাবদ টনে প্রতি ১২০ টাকা নির্ধারণ করে। একই বছরের ২৫ মে সর্বশেষ সৈয়দপুরে খাদ্য গুদামে মালামাল হ্যান্ডেলিং ও পরিহন কাজে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পান নীলফামারীর মেসার্স খালেক এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ঠিকাদার শ্রমিকদের সেই নির্ধারিত মজুরি না দিয়ে আমাদের ৪৭ টাকা করে মজুরি দিয়ে আসছে। এছাড়া মজুরি ব্যাংক হিসাব নাম্বারে পরিশোধের কথা বলা হলেও ওই ঠিকাদার তা করছে না। ঠিকাদারের এসব অনিয়মের বিষয় জানিয়ে আমরা ৬ জন বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি। এই কারণেই তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নূর আলম নামের অন্য এক কর্মচারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে আমরা কাজ করছি। আজ হঠাৎ করে বলছে আমদের ছাটাই করা হয়েছে। আমরা এখন কোথায় যাবো। কিভাবে সংসার চালাব।
তাদের ৬ জনের সকলেই অভিযোগ করেন, মজুরি কম দেওয়া ও ঠিকাদারের অনিয়মের প্রতিবাদ করাতেই সৈয়দপুর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদুজ্জামানের যোগসাজশে তাদের ছাটাই করা হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এভাবে ছাঁটাই করায় ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মজুরি কম দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ঠিকাদার খালেকুজ্জামান বলেন, ওই ৬ জন শ্রমিক পরপর ৩ দিন কাজে অনুপস্থিত ছিল। এতে করে গুদামে মালামাল উঠানো ও নামানো কাজে সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই তাদেরকে সাময়িকভাবে ছাঁটাই করা হয়েছে।
খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহামুদুজ্জামান বলেন, আমরা কোনো শ্রমিক নিয়োগ দিই না। আমরা কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দিই। ঠিকাদারদের শ্রমিক নিয়োগ করে আমাদের কাজ বুঝে দেন। তাই বিষয়টি ঠিকাদার ও শ্রমিকদের। এতে আমার করণীয় কিছু নেই।
সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিয়াউল হক শাহ বলেন, শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে আসি। যেহেতু ছাঁটাইয়ের বিষয়টি শ্রমিকদের লিখিতভাবে এখনো জানানো হয়নি তাই তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সাথে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ