• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে চিকিৎসা বর্জ্য, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

বিশেষ প্রতিনিধি।। আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই চিকিৎসা বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা ও জীবাণুমুক্ত করার নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। কিন্তু নীলফামারীর সৈয়দপুরে সেই নিয়ম মানছে না বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী চিকিৎসা বর্জ্য এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আশেপাশে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। পরে পৌরসভার ট্রাকে সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশদূষণের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলায় ১৫ টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং ও ৩৮ টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। ২০০৮ সালের  চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ বিধিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অবশ্যই চিকিৎসা বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলা ও জীবাণুমুক্ত করার নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।
কিন্তু গত মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা নেই। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টারগুলোর আশেপাশের সড়কে এবং অলিতে গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে মেডিকেল বর্জ্য। এগুলোর মধ্যে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, স্যালেইনের ব্যাগসহ অনান্য বর্জ্য কুড়িয়ে শিশুরা খেলা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈয়দপুর পৌরসভার এক কর্মকর্তা বলেন, পৌরসভাতেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডাস্টবিন নেই।  প্রতিদিন অন্যান্য বর্জ্যের সাথে সড়কেরর পাশে যত্রতত্র পড়ে থাকা ৩ থেকে ৪ টন মেডিকেল বর্জ্য সংগ্রহ করে খোলা জায়গায় ফেলা হয়।
সৈয়দপুর প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনেস্টিক ওনার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাজেদা ক্লিনিকের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে  অনুমতি দেওয়ার অন্যতম পূর্ব শর্ত থাকে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ৩ রংয়ের তিনটি ডাস্টবিন থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের এখানে ৩০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেই সেই ব্যবস্থাপনা নেই। মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রংপুরের প্রিজম নামে একটি বেসরকারি সংস্থার সাথে একটি চুক্তি রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী সংস্থাটি প্রতিমাসে বর্জ্যগুলো সংগ্রহ করে থাকে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে অর্থ ব্যায়ের কারণে সেই চুক্তি থেকে বিরত রয়েছে। তারাই মুলত যত্রতত্র মেডিকেল বর্জ্য ফেলছে। তিনি আরও বলেন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপবা সম্পর্কে সব প্রতিষ্ঠানকে জানানো হবে। এরপরও না মানলে সাংগঠনিকভাবে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলার সব স্বাস্থ্যেসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সচেতন করা হয়েছে। এরপরও যেসব প্রতিষ্ঠান মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মানবে না সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ নিয়ে কথা হয় জেলা চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিভিল সার্জন) হাশিবুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে খুব শিগগিরি তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হবে। পর্যবেক্ষণ করে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যেসব প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে না তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ