• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নীলফামারীতে প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিমিয় সভা

সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক প্রস্তাবিত প্রকল্পে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিমিয় সভা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। প্রস্তাবিত প্রকল্প উপস্থাপন করেন পাওয়ার চায়নার সিনিয়র এক্সপার্ট মো. মকবুল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার চায়নার কান্ট্রি ম্যানেজার হান কুন, ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার লিও।

এসময় বলা হয়, দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। এ নদীর চ্যালেঞ্জগুলো হলো তীব্র নদী ভাঙ্গন, আকস্মিক বন্যা, নদীর তলদেশে ভরাট। যার ফলে বর্ষাকালে অত্যাধিক পানি প্রবাহের কারণে ভয়াবহ বন্যায় জান-মাল ও ফসলাদির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। অপরদিকে শুস্ক মৌসুমে নদীতে পানির মারাত্মক অপ্রতুলতার কারণে নদীর তীরবর্তী আশেপাশেল এলাকায় চাষাবাদ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় অত্র এলাকা মরুকরণের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

প্রকল্পের কার্যক্রমে অংশে জানানো হয়, ১১০ কিলোমিটারে তিস্তা নদীর তীর সংরক্ষণ, এক হাজার ৩৩০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং কার্যক্রম, ২২৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার বাধ নির্মান ও মেরামত, ৬৭টি গ্রোয়েন ও স্পার নির্মান ও মেরামত, বাঁধের ওপর ২২৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মান ১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গ কিলোমিটারে ভূমি পুনরুদ্ধার। এসব কাজের মাধ্যমে নদীর ভাঙনরোধ, বন্যা ঝুঁকি হ্রাস, নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও পুনরুদ্ধার, শাখা নদীর নাব্যতা রক্ষা পাবে। নদীর খননকৃত মাটি ভরাট করে তীরবর্তী ভূমি পুনরুদ্ধার, উক্ত জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল, পাওয়ারপ্লান্ট, স্যাটেলাইট টাউন নির্মান, সেচ ও কৃষি ব্যবস্থা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রকল্পের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়, ওই প্রকল্পে পরবর্তী পাঁচ বছরে ৬৯৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার আয় হবে। পুনরুদ্ধারকৃত ১৭০ দশমিক ৮৭ বর্গকিলোমিটার জমির সম্ভাব্য মূল্য ১৩ হাজার ১১৬ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ হাজার ২৩৯ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে। পুনরুদ্ধারকৃত জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল আধুনিক স্যাটেলাইট শহর, পাওয়ার প্লান্ট, ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন ব্যবস্থা, উন্নত কৃষি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে যে সুবিধা পাওয়া যাবে তার মূল্য আরো অনেকগুণ বেশি হবে।

জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে তিস্তাপাড়ের মানুষ, তিস্তা নদীরক্ষা আন্দোলনকারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অংশীজনরা অংশগ্রহন করেন সভায়। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন পানি উন্নয়ন বোডের্র উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান, তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নদী গবেষক তুহিন ওয়াদুদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, জেলা জজ আদালতের জিপি আবু মো. সোয়েম, পিপি আল মাসুদ চৌধুরী, জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুস সাত্তার, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আবু সাঈদ লিওন প্রমুখ।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) আবদুস সামাদ শিকদারের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ