• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

পাকিস্তানের নারীদের দেয়া হচ্ছে যৌন শিক্ষা

sex education for womenআন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনা এত বেড়ে গেছে যে বহির্বিশ্বে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এই প্রথম দেশটির কয়েকটি গ্রামে নারীদের এমন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, যার ফলে তারা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতন হতে পারে।

পাকিস্তানের একটি গ্রামের মেয়েদের স্কুলে পড়াচ্ছেন শিক্ষিকা। তাদের প্রশ্ন করলেন, কোনো অচেনা ব্যক্তি যদি তোমায় স্পর্শ করে, কী করবে তুমি? এক ছাত্রী বলল, আমি চিৎকার করব, অন্যজনের জবাব, কামড়ে দেব, আর একজন বলল, নখ দিয়ে আঁচড়ে দেব। আপনি অবাক হতেই পারেন, এটা কী ধরনের শিক্ষা!

হ্যাঁ এটাই যৌন শিক্ষা, যা দেয়া হচ্ছে পাকিস্তানের মেয়েদের স্কুলে। পশ্চিমা বিশ্বে যৌন শিক্ষা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু রক্ষণশীল পাকিস্তানে এ ধরনের শিক্ষা আসলেই এক অভাবনীয় ব্যাপার।

প্রকাশ্যে আলোচনার উপর নিষেধাজ্ঞা
পাকিস্তানে প্রকাশ্যে যৌন শিক্ষা বা এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার উপরই একধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমনকি কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তাকে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেয়া হতে পারে। কোনো কোনো স্থানে একটি মেয়ে প্রকাশ্যে কোন বিয়েতে নাচলে বা জানালা দিয়ে তাকালে তার গর্দান কাটা হয়, অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয় বা অন্য কোনো কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।

অভিভাবকদের সমর্থন
দারিদ্র্য পীড়িত সিন্ধু প্রদেশে অবশ্য চিত্রটা ভিন্ন। সেখানকার গ্রাম জোহি-র শিক্ষকরা জানালেন, পরিবারের সদস্যরা নারীদের যৌন শিক্ষার বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই সমর্থন করছেন। ‘গ্রাম শাদাবাদ সংগঠন’ স্থানীয় ৮টি স্কুলের অন্তত ৭০০ ছাত্রীকে এই শিক্ষার আওতায় এনেছে।

কী ধরনের শিক্ষা?
আট বছর বয়স থেকে ছাত্রীদের এই শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। জানানো হচ্ছে, কখন তাদের শরীরে কী কী ধরনের পরিবর্তন হয়, কোন ধরনের স্পর্শ খারাপ এবং কীভাবে তারা তা প্রতিরোধ করবে। নারীদের অধিকার সম্পর্কেও শিক্ষা দেয়া হচ্ছে।

সংগঠনের প্রধান আকবর লাসারি জানালেন, ‘‘আমরা জানি এই বিষয়টি নিয়ে কোনো মানুষ কথা বলতে চায় না। কিন্তু এটাও তো তারা অস্বীকার করতে পারে না যে এটা জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ না।

তিনি জানালেন, এ সব গ্রামের বেশির ভাগ মেয়েই জানে না ‘পিরিয়ড’ কী, কখন হয়, হলে কী কী করতে হবে, এমনটি যখন তাদের বিয়ে হয় তখনও তাদের অনেকেই শারীরিক যৌন সম্পর্ক বিষয়টি জানা থাকে না।

এই শিক্ষায় মেয়েদের বৈবাহিক ধর্ষণ সম্পর্কেও জানানো হয়। পাকিস্তানে স্ত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে সঙ্গমে বাধ্য করাটা অপরাধের মধ্যে পড়ে না। লাসিরি জানালেন, তারা শিক্ষা দেন যে তাদের ইচ্ছা না থাকলে স্বামী তাদের সঙ্গমে বাধ্য করতে পারে না।

স্বাভাবিক শিক্ষার মধ্যেই প্রতিটি শ্রেণিতে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লাসিরি জানালেন, এখন পর্যন্ত কোন অভিভাবক এ শিক্ষার বিপক্ষে মত দেননি। সবাইকে জানিয়েই এটি শুরু করা হয়েছে এবং সবাই এতে সমর্থন দিয়েছেন। শুনলে অবাক হতে হয়, একটি অস্ট্রেলীয় কোম্পানি এটিতে অর্থ সহায়তা করলেও পরিকল্পনাটা গ্রামবাসীদের।

শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
১০ বছর বয়সি শিক্ষার্থী উজমা পানওয়ার জানালো, ‘আমার শরীর কেবল আমার এবং এতে আমার অধিকার সম্পূর্ণ। কেউ যদি আমার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে আমি তাকে কামড়ে দিব বা থাপ্পড় দিব।’

১৬ বছরের সাজিদা বেলুচ জানাল, ‘আমাদের শিক্ষকরা জানান, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কী কী ধরনের সম্পর্ক হয়। তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত আমাদের জানান। এখন আমরা জানি, আমাদের কী করা উচিত আর কী উচিত নয়।’

সরকারি সমর্থন
এটা ঠিক যে পাকিস্তানের প্রত্যেকেই এ বিষয়টিকে সমর্থন করছে না। কেননা পাকিস্তানে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে যৌন সম্পর্ক খুব বিরল ব্যাপার। এ কারণে সম্প্রতি লাহোরের গ্রামার স্কুলে যৌন শিক্ষা পাঠ্যসূচি থেকে বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

অল পাকিস্তান প্রাইভেট স্কুলস ফেডারেশন এর সভাপতি মির্জা কাসিফ আলী জানালেন, ‘‘যৌন শিক্ষা আমাদের সংবিধান এবং ধর্মের পরিপন্থি। এই ফেডারেশন কর্তৃক পরিচালিত ১ লাখ ৫২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে পাকিস্তানে। কাসিফ-এর বক্তব্য হল – যে বিষয়টির সাথে তারা এই বয়সে যুক্ত হচ্ছে না, সেটির বিষয়ে শিক্ষার প্রয়োজনটা কী?

অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতে বেশিরভাগ সরকারি স্কুলের পাঠ্যসূচিতে যৌন শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানের সরকারি স্কুল গুলোতে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

তবে পাকিস্তানের উলেমা কাউন্সিলের প্রধান তাহির আশরাফি এই শিক্ষাকে সমর্থন করেন। তিনি জানালেন, সব শিক্ষক যদি নারী হয়, শরিয়া মেনে নারীদের শিক্ষা দেয় তবে এটা সমর্থন না করার কিছু নেই। সূত্র: ডিডব্লিউ ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ