এমন অভিযোগ করে এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান এবং এই লিখিত অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাঁচবিবি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে প্রেরণ করেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীরা হলেন- একই এলাকার খালেকুজ্জামান, আব্দুর রহমান, শামীমুর রহমান, শফিকুর রহমান৷ আলমগীর কুম কুম, প্রণব বসাক, মনজুর মোরশেদ, ফাতেমা বেগমসহ ১০ জন।
অভিযোগকারীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেন তা হলো- স্লিপের বরাদ্দকৃত অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদরে শিখনের কাজে ব্যয় না করে অর্থ আত্মসাৎ, বিদ্যালয় চলাকালে প্রতিদিন বিকেল ৩ টার পরে পাঠদান না হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই বাড়ি চলে যায়, প্রতি বছর বরাদ্দ থাকলেও টয়লেট পরিস্কার না করা ও পানির ট্যাপ না থাকায় শিক্ষার্থীরা তা ব্যবহার করতে পারে না, দপ্তরি কাম প্রহরী থাকলেও শ্রেণিকক্ষ, খেলার মাঠ ও টয়লেট পরিস্কার না করার ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা করতে হয়, চারু ও কারু পরীক্ষায় হাতের কাজের নামে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নগদ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়, কিছু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রধান শিক্ষকের নিজ বিকাশ একাউন্টে যায়, পাঠদান চলাকালে ক’জন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষেই ঘুমান বা মোবাইল নিয়ে ব্যস্থ থাকেন, অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান বিধায় ক্লাসে পাঠদানে মনোনিবেশ করেন না ও বিশুদ্ধ খাবার পানি বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা পান করেন কিন্তু কোমলমতি শিশুরা পৌরসভার সরবরাহ করা পানি পান করতে বাধ্য হন।
উপরোক্ত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করলে তিনি কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো অভিভাবকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচারণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ নিয়ে অভিযোগকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ দাখিল করার কথা স্বীকার করেন।
সমিরন নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তা বানু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে অভিযোগগুলো করা হয়েছে।
পাঁচবিবি উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, ” গতকাল নির্বাহী কর্মকর্তার বদলি হয়েছে, আমি আজ থেকে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছি, সবকিছু জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। “
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জেছের আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ” গত ৭ অক্টোবর তারিখের লেখা একটি অভিযোগ সম্প্রতি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসেছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।