সিসি ডেস্ক: গেল বছর সারাদেশে ৫’শ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৫০ জন। ১৮০ শিশু হত্যাকাণ্ড এবং ১৭০ জন শিক্ষাঙ্গনে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এছাড়া ৪২ জন অপহরণ, ২৫ জন নিখোঁজ ও ১৪৯ শিশু দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে সোমবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)’ এ তথ্য জানায়। ‘সাম্প্রতিক শিশু পরিস্থিতি : উদ্বেগ ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজন করা হয়।
ফোরামের চেয়ারপারসন ইমরানুল হক চৌধুরী বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ৪২ শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে যাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ৩৭ অপহৃত শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৯ শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। পাচার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৩৬ শিশুকে।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও ১৭০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবর মাসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙা স্কুলে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ১০০ শিশুকে প্রহৃত হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ১৩২ শিশু পানিতে ডুবে, আগুনে মারা গেছে ২২ শিশু এবং ১৪ শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।
তিনি আরও জানান, টঙ্গীতে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে কিশোরদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের প্রতিবাদে নিজ শরীর কেটে ক্ষতবিক্ষত করে প্রতিবাদ জানানোর যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আমাদের বিবেককে দংশন করেছে। ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে শুধু সংবাদপত্রের তথ্যমতে ২৮ শিশু হরতাল ও অবরোধের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ শিশু নিহত ও ২২ শিশু দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হারিয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপনের ক্ষমতা হারিয়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শিশুদের ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি যৌন হয়রানি, ধর্ষণ রোধে পর্নোগ্রাফি অ্যাক্ট ২০১২ এর ব্যপক প্রচার ও কার্যকর প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এছাড়া টেক্সটবুকে শিশুদের উপযোগী যৌন শিক্ষাবিষয়ে নিবন্ধ সংকলন করা, যৌনতা বিষয়ে গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-পরিবারে এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে নেতিবাচক ও ইতিবাচক বিষয়গুলো সম্পর্কে শিশুদের অবহিত করা এবং পর্নো ওয়েবসাইটগুলো দ্রুত বন্ধের ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানান।