গাইবান্ধা: পলাশবাড়ি উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের ফকিরহাট বালা বামুনিয়ায় জুয়া এবং অবৈধ যাত্রা ও নগ্ন নৃত্যের আসর সোমবার রাতে এক অভিযান চালিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। অভিযান শেষে জুয়া এবং যাত্রার বিভিন্ন উপকরণ পেট্টোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত দু’মাস যাবত ফকিরহাটের বালা বামুনিয়ায় অবৈধভাবে জুয়া এবং যাত্রা গানের আসর চলে আসছিল। প্রতিরাতেই যাত্রার নামে এখানে চালানো হতো নগ্ন এবং অশ্লীল নৃত্য। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ এহছানে এলাহীর নিকট অভিযোগ করা হলে তাঁর নির্দেশে পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমবার রাতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
এদিকে গত দু’সপ্তাহ যাবত গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর হাট সংলগ্ন কালিতলায় প্রায় ১১ বিঘা আবাদি জমির ফসল তুলে ফেলে সেখানে প্যান্ডেল টাঙিয়ে অবৈধভাবে একটি ক্লাবের নামে হাউজি, জুয়া, মদ, গাঁজা এবং অবৈধ যাত্রার আসর চালানো হচ্ছে। যখন এসএসসি ও উচ্চ মাধ্যমিকের স্নাতক পরীক্ষা চলছে সে সময় প্যান্ডেলে উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে এবং হাটে হাটে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রতিরাতেই জুয়া, হাউজি ও যাত্রার নামে অশ্লীল নৃত্যের আসর চালানো হচ্ছে। এছাড়া এই যাত্রার আসরকে ঘিরে চলছে অবৈধ মদ, গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের অবৈধ কারবার। ফলে এলাকার ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং আইন শৃংখলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটছে। ওই এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছিচকে চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ জেলা ও পুলিশ প্রশাসন অভিযোগ প্রাপ্তি সত্ত্বেও জুয়া, হাউজি, অশ্লীল নৃত্য বন্ধে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এব্যাপারে এনডিসি আবু সুফিয়ানকে টেলিফোনে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণার্থে জরুরী ভিত্তিতে তা জেলা প্রশাসককে জানাবেন বলে উল্লেখ করেন। পুলিশ সুপার মোঃ মোফাজ্জেল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এখানে যাত্রা চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু জুয়া, হাউজি ও অশ্লীল নগ্ন নৃত্য চালানোর কোন অনুমতি দেয়া হয়নি, সুতরাং তা অবৈধ। তবে তিনি এসব অশ্লীল কারবার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।