সিসি নিউজ ডেস্ক।। অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওরে গত কয়েকদিনে ৩০৫ হেক্টর বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে যেতে পারছেন না কৃষক ও শ্রমিকরা। এতে করে ক্ষতির মুখে অন্তত ২ হাজার কৃষক। আজ সোমবারও (৪ মে) সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে জেলার বিভিন্ন স্থানে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাসিরনগরের হাওর এলাকাগুলোর ১১ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত শুরুর আগেই ৬০ শতাংশের বেশি ধান কর্তন করা হয়। তবে বৃষ্টির কারণে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন জমি প্লাবিত হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার সকাল পর্যন্ত ৩০৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে করে ২ হাজারেরও বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে, পানি বাড়তে থাকায় দৈনিক দেড় হাজার টাকা মজুরিতেও শ্রমিক মিলছে না ধান কাটার জন্য। ফলে জমিতেই পচে নষ্ট হচ্ছে পাকা-আধাপাকা ধান। এছাড়া কিছু কিছু জমির ধান কাটা গেলেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধান শুকানো যাচ্ছে না। এতে করে লোকসান বাড়ছে কৃষকদের।
করিম উদ্দিন নামে নাসিরনগরের এক কৃষক জানান, ধারদেনা করে মেদীর হাওরে ১৫ কাণি জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। অধিকাংশ ধানই পেকেছিল। ধান কাটার প্রস্তুতি নেয়ার মধ্যেই টানা বৃষ্টিতে সব জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি মজুরি দিয়ে জমির ধান কাটলেও বাজারে এসব ধান ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে বেচতেও কষ্ট হবে- যা থেকে উৎপাদন খরচ আরও বেশি বলে জানান তিনি।
আব্দুর রহিম নামে আরেক কৃষক বলেন, অনেক কষ্ট করে জমিতে ধান ফলিয়েছি৷ কিন্তু কষ্টের সেই ফসল ঘরে তুলতে পারছি না। জমির ধান বিক্রি করেই আমার পরিবার চলে। এখন জমির ধান কাটতেও পারছি না, বেচতেও পারছি না। একেবারে পথে বসার মতো অবস্থা আমার।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, বর্তমানে ৩০৫ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে আছে৷ এছাড়া যেসব ধান কাটা হয়েগিয়েছিল, সেগুলো রোদ না উঠায় শুকানো যাচ্ছে না। ফলে সে ধানগুলোও নষ্ট হওয়ার পথে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার জন্য তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।