সিসি নিউজ।। নীলফামারীতে জমে উঠেছে শেষ মুহুর্তের কোরবাণীর পশুর হাট। ক্রেতা বিক্রেতার সমাগমে জমে উঠেছে বেচা-কেনা। জেলার বিভিন্ন হাটে দেশি জাতের মাঝারী আকারে গরুর চাহিদা বেশি ক্রেতাদের। এবার চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ৫০ হাজার কোরবাণীর পশু প্রস্তুত হওয়ায় ক্রেতাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে পশুর দাম।
জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, এবার জেলার ছয় উপজেলায় বাণিজ্যিক ও পারিবারিক পর্যায়ের ৩৪ হাজার ৮০৩টি খামারে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০ টি কোরবানীযোগ্য পশু প্রস্তুত হয়েছে। এ জেলার মোট কোরবাণীর পশুর চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি। সে তুলনায় ৫০ হাজার ১৭৪টি পশু বেশি রয়েছে।
রোববার জেলা শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় কোরবাণীর পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে ক্রেতা বিক্রেতার উপচেপড়া ভীর। স্থানীয়রা যেমন এসেছেন কোরবাণীর গরু, ছাগল কিনতে। তেমনি জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা এসেছেন কোরবাণীর পশু কিনতে। হাটে ব্যাপক আমদানীতে নিরাশ হয়ে ফিরেনি কেউ। স্থানীয় ক্রেতাদের বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে দেশি জাতের মাঝারী আকারের গরু কিনে। ব্যবসায়ীরা ফিরেছেন বিভিন্ন আকারের গরু নিয়ে। দামে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই খুশি।
ওই হাটে দুপুরে জেলা সদরের সুটিপাড়া গ্রামের মো. আরমান হোসেন কোরবাণীর গরু কিনেছেন ৮২ হজার টাকা দিয়ে। তিনি বলেন,‘আমার সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে কোরবাণীর গরু কিনতে পেরেছি। দেশি জাতের ওই গরু থেকে ৮০ কেজির ওপরে মাংস পাবো’।
একই গ্রামের মো. আবুল হোসেন ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় কোরবাণীর গরু কিনে খুশি। তিনি বলেন,‘এবারে হাটে পর্যাপ্ত গরুর আমদানী হয়েছে। ক্রেতারা যে যার সাধ্যমতো কিনতে পারছেন’।
একই গ্রামের উন্নয়ন কর্মী ওমর ফারুক ৪২ হাজার টাকা দিয়ে কোরবাণীর গরু সংগ্রহ করেছেন স্থানীয় খামারীদের কাছ থেকে। তিনি বলেন,‘আমার পছন্দ অনুয়ায়ী এবার গরু কিনতে পেরেছি। ওই গরু থেকে প্রায় ৬০ কেজি মাংস পাওয়ার আশা করছি’।
জেলা সদরের ইটাখোলা এলাকায় অবস্থিত মোহনা এগ্রো ফার্মের স্বাত্বাধিকারী নুরুজ্জামান বলেন, ‘এবছর আমার খামারে ৫০টি দেশি ষাঁড় কোরবাণীর জন্য প্রস্তুত করেছি। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা আগাম বুকিং দিয়েছেন। প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি’।
একই এলাকার সিজু এগ্রো লিমিটেডের স্বাধিকারী আব্দুর রহমান বলেন, ‘এবার ১০০টিরও বেশি গরু প্রস্তুত করেছি। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ গরু বিক্রি হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি’।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক জানান, জেলায় ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি কোরবানীযোগ্য পশু প্রস্তুত হয়েছে। যার মধ্যে গরু ৮১ হাজার ৯১৫, মহিষ ৯৪, ছাগল ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯, ভেড়া ১৫ হাজার ৫৩২টি। কোরবানীর হাটে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বিঘেœ বেচাকেনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় এবার কোরবাণী পশুর চাহিদা ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৭৬টি। সে তুলনায় ৫০ হাজারের অধিক পশু জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন,‘এসব পশু প্রস্তুতে আমরা নিয়মিত খামারিদের সঙ্গে বৈঠক করে সচেতন করেছি। পশুগুলোকে সময়মতো ভিটামিন ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে’।