• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সৈয়দপুরে অনুষ্ঠিত হলো ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা

সিসি নিউজ।। প্রযুক্তি, রোবটিক্স ও উদ্ভাবনী চিন্তায় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে নীলফামারীর সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা।

‎উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে তাদের উদ্ভাবনী রোবট ও প্রকল্প প্রদর্শন করে।
‎প্রতিযোগিতার Future Innovators ক্যাটাগরিতে মোট ৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রোবটিক্স, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও সৃজনশীল চিন্তার সমন্বয়ে বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীরা নানা উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করে। তাদের তৈরি রোবট ও প্রকল্প প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খোন্দকার আব্দুল আলিম।
‎অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন WROএর রংপুর রিজিওনাল ডিরেক্টর এবং বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (BAUST)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এস. এম. জাহাঙ্গীর আলম।
‎এ সময় প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা ছাড়াও ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের উপাধ্যক্ষ (ইংলিশ ভার্সন), উপাধ্যক্ষ (স্কুল) এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
‎প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে ভেন্যু কো-অর্ডিনেটর হিসেবে সার্বিক সমন্বয় করেন প্রতিষ্ঠানের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক মো. বায়েজীদ হোসেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের STEM Club-এর শিক্ষকরা আয়োজন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
‎রংপুর বিভাগে পদকজয়ী দল:
‎প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের শিক্ষার্থীরা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। Future Innovators (Senior) ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুরের দল ‘অডিসি এক্স’।
‎Future Innovators (Junior) ক্যাটাগরিতে রৌপ্যপদক পেয়েছে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের দল ‘ডিপ থিংকার্স’।
‎এ ছাড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুরের ‘দ্য লেজি ইঞ্জিনিয়ার্স’ দল ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছে। একইভাবে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রংপুরের ‘জেনিথ রোবোটিকস’ দলও ব্রোঞ্জপদক অর্জন করে।
‎আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক মানের রোবটিক্স প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনেই সহায়তা করে না, বরং তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব সমস্যাকে প্রযুক্তির সাহায্যে বিশ্লেষণ ও সমাধানের সুযোগ পায়।
‎অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন যথেষ্ট নয়। নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান করার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।
‎তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রোবটিক্স ও প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে।
‎দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও রোবট প্রদর্শন, বিচারকদের মূল্যায়ন এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
‎সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সৈয়দপুরে WRO-এর জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও রোবটিক্স চর্চায় আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ