সিসি নিউজ।। বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরুর দিক থেকেই বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। কেননা আজকে বাংলাদেশ ট্রেনের যে লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনটি ব্যবহার করা হচ্ছে তা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস রেলের তৈরি। যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাজ করে আসছে এবং প্রযুক্তিগত সেবা দিয়ে আসছে। আজ মঙ্গলবার বিকালে দেশের বৃহত্তম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন শেষ রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, “আজ ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করেছি। সেখানে দেখলাম কীভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিবেদিতপ্রাণ প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও কর্মীরা এখানকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করছেন।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিস এনগক ডিন ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মিস নিকোল ক্ল্যারিসা বেসনার্ড, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা মি. সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন এবং মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মি. ফিরোজ আহমেদ।
এর আগে দুপুর ১টার দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা (কেলোকা) পরিদর্শন করেন তিনি। সেখান থেকে বিকেল ৩টায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত রেলপথে পার্বতীপুর থেকে প্রেসিডেন্ট সেলুন কোচ (বগি নম্বর ১২৬৫) করে দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও জাদুঘর পরিদর্শনে আসেন। রাস্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীরা সৈয়দপুর কারখানায় পৌছালে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) হলেন শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ।
এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, সৈয়দপুর সার্কেলের কর্মকর্তা ওহিদুর নবী, সৈয়দপুর থানা ও রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, “আমাদের এই অংশীদারত্বের মূল বিষয়ই হলো যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার প্রযুক্তি, আমাদের হস্তশিল্প এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশিদের দক্ষতা ও নিষ্ঠার সমন্বয়। প্রোগ্রেস রেল, ওয়েবটেকসহ আরও অনেক সেরা আমেরিকান প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখতে অত্যন্ত আগ্রহী।”
নিজের সফর নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি আশা করি, আমার এই সফর সেই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজতর করতে সাহায্য করবে। এছাড়া আমি ট্রেনে ভ্রমণ করতে সত্যিই পছন্দ করি। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এই সফরটি অসাধারণ ছিল। পুরো ভ্রমণে যে চমৎকার আতিথেয়তা পেয়েছি, তার জন্য ধন্যবাদ। এই সফরটিকে বিশেষ করে তুলতে যারা সাহায্য করেছেন, তাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।”
এরপর সেখান থেকে সৈয়দপুরের ঐতিহাসিক চিনি মসজিদ ও ক্রাইস্ট ক্যাথলিক চার্চ পরিদর্শন যান তিনি। সফর শেষে আজ রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তার।