ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।। ঠাকুরগাঁওয়ে পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার ভোরে নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ভেলাজান নদীপাড়া এলাকার আল আমিন (২৬), রুহুল আমিন (২৮), দুলালী বেগম (৩২) ও সুমন সাহা (২০)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার দিকে সদর থানার পুলিশ চিলারং ইউনিয়নের ভেলাজান নদীপাড়ায় একটি জিআর মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোহেল রানা (৪৩) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে যায়।
পুলিশ অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে গাড়িতে তোলার সময় আসামির স্বজনেরা ও স্থানীয় লোকজন পুলিশকে গালিগালাজ করে বাধা দেন। একপর্যায়ে অন্তত ২৫ জন লোক বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে হামলা চালায়। পরোয়ানাভুক্ত আসামির নির্দেশে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং সুযোগ বুঝে আসামি সোহেল রানা পাশে থাকা একটি পুকুরে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যরা আসামিকে পুনরায় ধরার চেষ্টা করলে আসামিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে হামলায় অংশ নেন। এতে অভিযানে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ওবাইদুর রহমানসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। পরে বেতার যন্ত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন,আইনসংগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালানো গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আল আমিনের বিরুদ্ধে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ডাকাতির চেষ্টা ও রুহিয়া থানায় মাদক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সুমন সাহার বিরুদ্ধেও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা চলমান রয়েছে।