• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

নারী অধিকার সময়ের দাবী

রইজউদ্দিন রকি:

Rokiপৃথিবী একুশ শতকে পর্দাপন করেছে। হয়েছে সমাজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। কিন্তু নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হয়েছে আমাদের দেশে কতটুকু? প্রতি বছরই পৃথিবীর সব দেশের মত আমাদের দেশেও উদযাপিত হয় নারী দিবস। আয়োজন করা হয় সভা-সেমিনারের। নারী শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় প্রতি বছর। কিন্তু এতে পুরুষের কতটুকু সক্রিয় অংশগ্রহন ও সমর্থন থাকে? নারীদের প্রতি কতটুকু শ্রদ্ধা ও সম্মান করা হয় তা পেপার পত্রিকা কিংবা টিভি চ্যালেন খুললেই নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নারীকে পুড়িয়ে মারা ইত্যাদি ইত্যাদি খবরই প্রমান করে আমাদের দেশে নারীদের সম্মান ও শ্রদ্ধার কতটুকু। এটি আমাদের কারোরী অজানা নয়। প্রকৃত পক্ষে বিশ্বব্যাপী নারীদের অবস্থানের তেমন কোন পরিবর্তন হয়নি এটিই বাস্তব চিত্র। তবে এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে। তা সন্তান হিসেবে, ভাই হিসেবে, স্বামী কিংবা স্বজন হিসেবেই হউক না কেন। অবশ্যই পুরুষদের নারীর প্রতি সহমর্মী হতে হবে। কারণ সহকর্মী পুরুষরাই নারীর সাফলতা, তাদের যোগ্যতায় নয় বরং নারীর দৈহিক রুপ দিয়ে বিচার করে। এমন কি অনেক বাবা-মাও মনে করেন যে, স্বামী চাইলে-স্ত্রীদের ক্যারিয়ারও ছাড়তে হবে। স্বামীর মন জোগাতে স্ত্রীকেই শুধু ছাড় দিয়ে চলতে হবে। আমাদের প্রকৃত জ্ঞানার্জন এখনো হয়তো সম্ভব হয়নি। কারণ আমরা পুরুষরা নারীদের পানির মত সম্মানহীন বা আকারহীন মনে করি। নারীদের সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে। পুরুষের সাজানো আকৃতি ধারণ করতে হয় তাদের। এ বৈষম্য প্রথমিক পর্যায়ে পরিবার থেকেই শুরু হয়। আর বাবা-মা অজান্তে সামাজিক বিধি নিষেধ আরোপ করে মেয়েদের ছেলেদের তুলনায় পিছিয়ে রাখে। গ্রাম কিংবা শহরে বাল্যকাল থেকেই পরিবার ও সামাজিক ভাবে এই বিধি নিষেধের মধ্য দিয়ে বড় হয় মেয়েরা। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা না থাকলে পরিবার, সমাজ বা দেশের কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু নারীর মাধ্যমে মানব সৃষ্টির পরিপূর্নতা ঘটেছে। কেননা স্রষ্টা আদমকে সৃষ্টি করার পর, তার পূর্ণতার জন্য হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন। হজরত আদম ও হাওয়া পৃথিবীতে আসার পর, এই নারীই কখনো মা হয়ে, সন্তানের দেখভাল করতে, স্ত্রী হয়ে স্বামীও সংসার গোছাতে, ঘরের বউ হয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা ও পরিবারের রক্ষিতা হয়ে থাকতে থাকতে নিজেস্ব আনন্দ-বেদনা সব ভুলে গেছে। হয়তো সে নিজেও জানেনা প্রমীলাদের কৃতিত্ব বর্তমান বিশ্বের সব ক্ষেত্রে বর্ধিয়মান। কারণ বিশ্বে “যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণ কর/ অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। তাদের সমঅধিকারের স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, মনে রেখো তোমাদের যেমন স্ত্রীদের ওপর অধিকার রয়েছে, তেমনি স্ত্রীদেরও তোমাদের প্রতি সমান অধিকার রয়েছে। তাই ধর্মের অপব্যাখ্যা করেই কেবল নারীদের অসম্মান করা সম্ভব। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় নারীর সম্মান রাসুল (সাঃ) দিয়েছেন, সে ক্ষেত্রে আমরা তো সামান্য মানুষ মাত্র। তারপরেও আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে অনেক নারী পৃথিবীর ইতিহাসের জননী। তাদেরই একজন হেলেন কিলার। তিনি বলেন, যখন একটি আনন্দের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখন আরেকটি সফলতার দরজা উন্মুক্ত হয়। আর এই সফলতার দরজার দিকে না তাকিয়ে ব্যর্থতার দিকে তাকিয়ে থাকাই কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। পুরুষশাসিত সমাজ নারীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে চায় না। তবুও নারীরা ঘুরে দাঁড়ায় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে, তৈরী সফলতাকে পদচুম্বন করতে বাধ্য করায়। জিনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে নারীরা পুরুষের তুলনায় দুর্বল। কিন্তু বুদ্ধি বা মেধার দিক থেকে নারীরা পিছিয়ে নেই এটি ধ্র“ব সত্য। যেমন- হিলারি ক্লিনটন বা কন্ডোলিজা রাইসের মত পররাষ্ট্র নায়ক, মানবতার কারিগর মাদার তেরেসাঁ, গনতন্ত্রের মানস কন্যা অং সাং সূচি নামা পৃথিবীর বুকে আসতো না। বিশ্বযুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া মার্গারেট থেচারের নাম পৃথিবীতে আসতো না। ইতিহাসের পাতা খুললে তাদের সফলতা উচ্চঃস্বরে প্রতিধ্বনি হতো না। আর বেগম রোকেয়ার মত রক্ষনশীল সমাজে বসবাস করেও পুরো সমাজকে পরিবর্তন করার সাহস রাখতেন না। বলতে পারতেন না পুরুষের সমকক্ষতা অর্জনই নারীর প্রকৃত শ্রেষ্টত্ব নির্ধারণের মাপকাঠি। শহীদ জাহানারা ইমামের আর্দশ্যকে লালন করে জন্ম হতো না গণজাগরন মঞ্চের মত দেশ প্রেমী একটি আদর্শের সংগঠনের। তাছারা বর্তমান দেশের প্রধান মন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, সর্ব শেষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম নারী উপাচার্য হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন অধ্যাপক ফাজানা ইসলাম। তিনিও কিন্তু নারী, তাই বলতে চাই, নারীদের ধর্ষন নয়, পুড়িয়ে মারা নয়, নির্যাতন নয়, অনুগ্রহ নয়- তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, রাস্তা-ঘাটে, সহধমির্নী হিসেবে, মা-বোন হিসেবে, স্বজন, সহকর্মী হিসেবে দিলেই দেশ ও জাতীর উন্নয়ন এবং অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ