সিসি নিউজ।। নীলফামারীর পরিত্যক্ত কারাগারের ইট, লোহা ও কাঠ চুরির সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েছে একটি ট্রাক। সরকারি রিকুইজিশন করা ট্রাকটি কৌশলে সটকে পড়লে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ পুরাতন ওই কারাগার ভবনটির সরকারি কোন প্রকার নিলাম ছাড়াই প্রতিনিয়ত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পুরাতন ইট, কাঠ এবং লোহা। এমন অনিয়ম দেখে স্থানীয় লোকজন গত ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টার দিকে ওই কারাগার চত্বরে একটি ট্রাকে ইট বোঝাই করতে দেখে এগিয়ে যায়। এসময় দেখতে পায় সরকারি রিকুইজিশন করা ট্রাক (পাবনা-ট-১১-০৬৬৮) ভবনের পুরাতন ওই ইট পরিবহনের জন্য উঠানো হচ্ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাক ড্রাইভার মো. শামীম জানান, ট্রাফিক সার্জেন্ট রাস্তা থেকে তাঁর ট্রাকটি সরকারি কাজের জন্য অধিগ্রহণ করেন। এরপর তাকে ওই স্থানে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. সাদেকুর রহমান সুজন জানান, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বডিগার্ড তাঁকে একটি ট্রাক রিকুইজিশন করে দেওয়ার কথা করেছিলেন। এবিষয়ে তিনি আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহেল শাহের সঙ্গে কথা বলে ট্রাকটি রিকুইজিশন করে দেন। তিনি বলেন, ’চাহিদা মাফিক সরকারি কাজের জন্য ট্রাকটি রিকুইজিশন করে দেওয়া হয়েছিল। সেটি অন্য কোন কাজে ব্যবহার হলে সেটি আমার দায় না’।
রিকুইজিশনের নথি থেকে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর ‘অস্থাবর সম্পত্তি হুকুম দখল আদেশ’ আইনে পাবনা-ট-১১-০৬৬৮ নম্বর ট্রাকটি রিকুইজেশন করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় নীলফামারী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর দপ্তরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় ট্রাকের চালক মো. শামীমকে। সে মোতাবেক ট্রাক চালক ১০ সেপ্টেম্বর হাজির হলে তাকে পুরাতন আদালত চত্বরে পাঠানো হয়। এরপর সেখানে ওই ট্রাকে কারাগারের পুরাতন ভবনের ইট বোঝাই করতে শুরু করেন শ্রমিকরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রিকুইজেশন করা কোন যানবাহন সাধারণ সরকারি কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। তবে রিকুইজিশন করা একটি ট্রাক কীভাবে সরকারি স্থাপনার অ-অনুমোদিত মালামাল সরানোর কাজে ব্যবহার করা হয় ?
ওই ট্রাকের চালক মো. শামীম বলেন,‘রিকুইজেশন মোতাবেক ট্রাক নিয়ে হাজির হলে আমাকে এখানে পাঠানো হয়। এসব মালামাল (ইট) নিয়ে রংপুর যেতে হবে বলে আমাকে জানানো হয়েছে’। গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত ওই কারাগার ভবনের মালামাল নিলামের বিষয়ে এখনো কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইতিপূর্বেও এই পরিত্যক্ত ভবন থেকে বিপুল পরিমাণের ইট, লোহা ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বুলবুল আহমেদ নীলফামারী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১১১৯, তারিখ ২০/০৪/২০২৬) দায়ের করেছিলেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, পুরাতন কারাগার ভবনের নিলামে বিক্রি না হওয়া বেশ কিছু ইট, লোহা, কাঠসহ অন্যান্য মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি গায়েব হয়ে যায়। ওই জিডির পরও সরকারিভাবে রিকুইজিশন করা ট্রাক ব্যবহার করে ইট সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি বেশ সমালিত হচ্ছে মানুষের মুখে মুখে।
এবিষয়ে নীলফামারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌলী মো. সাকিউজ্জামান জানান, ওই পুরাতন কারাগার ভবনের মালামাল বিক্রির এখনো কোন টে-ার হয়নি। সেখানকার মালামাল পাহাড়া দেওয়ার দায়িত্ব আমার নয়। সেখানকার মালামাল চুরির ঘটনায় এর পূর্বে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সোহেল শাহের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোনকল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
থানায় জিডি এবং ১০ সেপ্টেম্বরে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন,‘জিডির বিষয়টি তদন্ত করে কিছু পাওয়া যায়নি। আর ১০ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি’।