• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন |

গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনি, দুজনের মৃত্যু

বিশেষ প্রতিনিধি।। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অটোরিকশা চুরি করে পালানোর অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে পিটুনি দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বাগডহরা এলাকার রেজাউল ওরফে কানা এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাদিকুল ইসলাম। তাঁদের বিরুদ্ধে অটোরিকশা চুরির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

চুরি হওয়া অটোরিকশাটির মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল। তিনি বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মতিন মিয়ার ছেলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরপানাপুকুর গিরিয়ারপাড় এলাকার বড় সেচ ক্যানেলের পাশে দুজনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহ ঘিরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটির সুরতহাল করছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ভোরে সোহেলের বাড়ির সামনের মসজিদে মুসল্লিরা ফজরের নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় সোহেল চিৎকার করে জানান, তাঁর অটোরিকশাটি চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কয়েকজন মুসল্লি নামাজ ছেড়ে চোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিদের পিছু নেন। তাঁদের আটক করতে না পেরে মসজিদের মাইকে অটোরিকশা চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এরপর স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন দিক থেকে ধাওয়া করেন। তাঁদের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে অটোরিকশাটি রেখে ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে চারদিক থেকে তাঁদের ঘিরে ফেলেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় লোকজনের মারধরে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

অটোরিকশার মালিক সিদ্দিকুর রহমান সোহেল বলেন, আগের রাতে বাথরুমের মেঝে ঢালাইয়ের জন্য দুই বস্তা সিমেন্ট এনেছিলেন। সেগুলো অটোরিকশায় ছিল। ভোর চারটার দিকে উঠে তিনি অটোরিকশাটি চার্জে রয়েছে দেখে ঘুমাতে যান।

সোহেল বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর আমার ছোট মেয়ে কান্না করে ওঠে। তাকে বুকে নিয়ে ঘুম পাড়াচ্ছিলাম। এর মধ্যে তারা অটোরিকশার ঘরের তালা কেটে ভেতরে ঢোকে। প্রথমে আমার ঘরের দরজায় দুবার আঘাত করে। তখন বিষয়টি বুঝতে পারি। ভাবছিলাম, মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে উঠবো। এর দুই মিনিট পর আমার স্ত্রী বলে, তুমি ঘুমাচ্ছো আর আমাদের অটোরিকশা নিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠে বারান্দা দিয়ে বের হয়ে অটোরিকশার পেছনে টান দিই। তারা আমাকে নিয়েই অটোরিকশা টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে আমি অটোরিকশা ছেড়ে চিৎকার শুরু করি। মসজিদের লোকজন বের হয়ে দেখেন, আমি মাটিতে পড়ে আছি; আমার হাঁটুর চামড়া উঠে গেছে। এরপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, চোর অটোরিকশা নিয়ে উত্তর দিকে পালাচ্ছে, আপনারা আটকান। পরে শুনি, আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ক্যানেলের কাছে পিটুনিতে দুজন মারা গেছেন।’7

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ‘খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরে মরদেহ দুটির সুরতহাল শেষে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ