সিলেট: কোনোদিনও পুরস্কার না পাওয়া শাহজলাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল এখন পুরস্কার দিয়ে রেকর্ড করতে চান। বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোগে মেধাবী শির্ক্ষীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।
জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি কোনোদিন কোনো পুরস্কার পাইনি। কখনো যদি খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করতাম তাহলে সব সময় পরাজিত হতাম। তাই পুরস্কার প্রদান করতে আমি খুবই আনন্দিত হই।’
তিনি বলেন, ‘আমি সবচেয়ে বেশি পুরস্কার দিয়েছি। পুরস্কার দেয়ার সব টেকনিক আমার জানা হয়ে গেছে। এখন আমার একটাই টার্গেট পুরস্কার দেয়ার রেকর্ড করা।’
জাফর ইকবাল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে কোনো চিন্তা করার কারণ নেই। কারণ দেশে প্রায় ৪ কোটি ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করছে। আর বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রতি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই দিন দিন লেখাপাড়ার ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে তলাবিহীন জুড়ি বলা হতো। কিন্তু এখন আর এই অপবাদ নেই। কারণ দেশকে মেধাবীরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। মেধাবীদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তারা দেশের সম্পদ।’
তিনি বলেন, ‘বাঙালিদের মনে যত কষ্ট থাকে না কেন, তার চেয়ে বেশি মুখে হাসি থাকে। বাঙালিরা হাসতে জানে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা কোনো সময় হারতে জানি না। এই দেশ থেকে পাকিস্তানিদের পরাজিত করে স্বাধীনতা পেয়েছি। ভবিষ্যতেও আমাদের মেধাবীরা দেশকে এগিয়ে নেবে।’
সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের সিলেটের জেনারেল ম্যানেজার মজিবর রহমানের সভপতিত্বে ও সৈয়দ ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেনারেল ম্যানেজার’স অফিস সিলেটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এসএম আবুল কালাম আজাদ।
বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্র কাওসার আহমদ ও সিলেট সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছাত্রী নাসরিন আক্তার।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড সিলেট দরগাগেইট করপোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আইয়ুব আলী, প্রিন্সিপাল অফিস সিলেটের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল মুমিন পাটোয়ারী, মৌলভীবাজারের ডেপুটি ম্যানেজার রণধীর চন্দ্র দাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল বৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৮ মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে সোনালী ব্যাংকের পক্ষ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে বাউল রণেশ ঠাকুরের একক সংগীত পরিবেশন করা হয়।
উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংক ২০১৩ সালের বরাদ্দ থেকে সারাদেশে মোট ১ হাজার ২১৭ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে (জন প্রতি ১৫ হাজার) মোট ১ কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বিতরণ করেছে। সিলেট বিভাগে বিতরণকৃত অর্থের পরিমাণ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।