সিসি ডেস্ক: উত্তর অ্যামেরিকার পর এবার ইউরোপের ভূখণ্ডে খুঁজে পাওয়া গেল বিশালাকার মাংসাশী ডাইনোসরের জীবাশ্ম। টিরানোসরাস এক্স-এর থেকেও বড় ও হিংস্র এই প্রাণী অনেক রহস্য সমাধানের চাবিকাঠি হতে পারে।
‘জুরাসিক পার্ক’ ছবির কল্যাণে ডাইনোসর আজ আরো পরিচিত হয়ে উঠেছে। কিন্তু তাদের সম্পর্কে আমাদের সব কিছু এখনো জানা হয়নি। এই যেমন সম্প্রতি পর্তুগালে একেবারে নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে। নাম- টোরভোসরাস গুরনেয়ি। টিরানোসরাস এক্স-এর মতো চরিত্রের এই ডাইনোসর প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে দাপিয়ে বেড়াতো। ইউরোপে এর আগে এত বড় আকারের ডাইনোসরের খুঁজে পাওয়া যায় নি। জুরাসিক যুগের অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যেও এত বড় ডাইনোসর পাওয়া কঠিন।
টোরভোসরাস টিরানোসরাস এক্স-এরও ৮ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করতো। ভয়ংকর হিংস্র এই প্রাণীর সামনে বাকিরা অসহায় বোধ করতো। মাংসাশী এই প্রাণী দু’পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকতো। দাঁত ছিল ব্লেডের মতো ও প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এদের উচ্চতা ১০ মিটার পর্যন্ত হতে পারতো। ওজন ৪ থেকে ৫ টন।
এর আগে উত্তর অ্যামেরিকায় টোরভোসরাস টানেরি নামের যে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে, তাদের সাথে পর্তুগালের টোরভোসরাস গুরনেয়ির মিল রয়েছে। হয়ত আত্মীয়তাও ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দুই মহাদেশে এদের বিবর্তন আলাদাভাবে হয়েছে।
বিচ্ছিন্নভাবে নতুন এই ডাইনোসর প্রজাতির জীবাশ্মের আবিষ্কার বেশ সাড়া ফেলেছে। কিন্তু এর একটা অন্য মাত্রাও রয়েছে। জুরাসিক যুগের ‘ফুড চেন’ বা খাদ্য-খাদকের শৃঙ্খলা সম্পর্কেও এবার নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে। মাংসাশী এই দৈত্য সমসাময়িক নিরামিশাষী সরোপড জাতীয় ডাইনোসরকে অনায়াসে খেয়ে ফেলতো। এছাড়া দুই মহাদেশে ডাইনোসারদের বিবর্তনের তুলনামূলক বিশ্লেষণের কাজও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেলো বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।