আকতার হোসেন বকুল, হিলি: দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত সহ বাজারের রাস্তা ঘাটে পথ চলতে গেলেই হর-হামেসাই চোখে পড়ে বড়দের পাশাপাশি কোমল মতি শিশুদেরও অবৈধ ভারতীয় মালামাল মাথায়, পিঠে অথবা গায়ে জড়িয়ে ছুটা-ছুটি করছে বাংলাহিলি বাজারের এ দোকান থেকে ও দোকানে। আবার অনেক শিশুরা বেশী লাভের আশায় ট্রেন, বাসের অপেক্ষা করছে মালামালগুলো দুরের শহরে নেয়ার জন্য।
অথচ যে বয়সে বই-খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা আর সেই বয়সেই চোরাচালানি কাজে ব্যস্ত এই সব কোমলমতি শিশুরা। এমনি এক দৃশ্য ক্যামেরা বন্দি হয় হিলির বাসুদেবপুর এলাকায়। নাম তার জনি। বয়স ৭-৮ বছর। কয়েটি ভারতীয় জিরার প্যাকেট নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায়। তাকে দাঁড় করিয়ে ছবি তুলতেই বিনয়ের সঙ্গে বলে উঠে স্যার জিরা গুলো নিলে ফুফু আমাকে মারবে খেতে দিবেনা এবং বাড়িতেও উঠতে দিবেনা। তাকে সান্তনা দিয়ে পরিচয় জানতে চাইলেই বেড়িয়ে আসে এক করুন কাহিনী। সে জানায় জন্মের আগেই তার বাবা অধীক নেশা করত ও নেশার টাকা যোগাড় করতে না পেলে অকারনে মাকে শারিরীক নির্যাতন করত। এ কারনে মা তাকে ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসে। জনির জন্মের ৬ মাস পর তার মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়। সেই থেকেই ফুফু তাকে লালন-পালন করে। এতসব তুমি জানলে কিভাবে প্রশ্ন করতেই বলে উঠে। কোনদিন বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় মালামাল পাচার করতে না পালে বা কেড়েনিলে সেদিন ফুফু আমাকে শারিরীক নির্যাতন করে ও মা- বাবার অতীত ইতিহাস তুলে গাল-মন্দ করে।
আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই জনির মত শতশত শিশুকে এই অন্ধকার জীবন থেকে ফিরে আনতে সরকারের পাশাপাশি সকল বেসরকারি সংস্থা ও সমাজের সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।