সিসি নিউজ, রংপুর: সিটি করপোরেশনের টোল আদায়কে কেন্দ্র করে সোমবার রংপুরে ট্রাক চালক সমিতির কর্মচারীদের সাথে টোল আদায়কারীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ২৫ জন। ঘটনার প্রতিবাদে বিুব্ধ ট্রাক শ্রমিকরা রংপুর-ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কে ট্রাক দিয়ে তিন ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশের আশ্বাসের ভিত্তিতে সড়ক অবরোধ তুলে নেয় অবরোধকারীরা।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, দুই বছর ধরে সিটি করপোরেশন টোল আদায়ের জন্য নির্ধারিত এলাকা হিসেবে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চিহিৃত করে। কিন্তু টোল আদায়ের সাথে জড়িত কর্মচারীরা সড়ক-মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন আটকিয়ে ট্রাক প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা আদায় করেন। এ ঘটনার জের ধরে সোমবার সকাল ১১টায় টোল আদায়কারীর সাথে এক ট্রাকচালকের কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে রংপুর ট্রাক চালক সমিতি ও টোল আদায়কারীদের মধ্যে সংর্ঘষ বাধে। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে দুই পক্ষই তিন ঘন্টা ধরে সংঘর্ষ ও মহড়া দেয়। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ২৫ জন। আহতদের মধ্যে সুমন, সিরাজুল, রাজা, সোহেল, রকেট, বুলেটসহ অন্যদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহত সিরাজুল জানান, টোল আদায়কারী কর্মচারী ময়নুল, আযম, রনজু ও আরাফাতের নেতৃত্বে ধারালো অস্ত্রসহ রাজা গ্যারেজে এসে এলোপাথারী মারপিট করে। এসময় আমরা নিজেদের ট্রাক শ্রমিক নই বলে পরিচয় দিলেও তারা আরো মারধোর করে এবং গ্যারেজ থেকে একটি মোবাইলসহ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
রংপুর জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদকের সহিদুল ইসলাম মানিক জানান, সিটি করপোরেশন অগণতান্ত্রিকভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে টোল আদায় করছে। টোল ইজারাদার বাবুর নেতৃত্বে এবং হুকুমে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিরস্ত্র ট্রাক শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। অবৈধ টোল আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সিটি করপোরেশনের টোল ইজারাদার বাবু জানান, শ্রমিকরা আমাদের কর্মচারীদের টোল আদায়ে বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষ বাধে। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জানিয়েছি। যারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে তারা টোল আদায়কারী কর্মচারী নয়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং টোল আদায় বন্ধের দাবিতে ট্রাক চালক সমিতি ট্রাক দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা এ্যাম্বুলেন্সসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে যাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীনের অনুরোধে তিন ঘন্টা পর সড়ক অবরোধ তুলে নেয়। বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় আছে। ট্রাক টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।