সিসি নিউজ: ‘আমার কলিজার টুকরা ছেলে-মেয়ে দুজনের মাথায় হাত রেখে আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি- আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। যদি দোষী হই তাহলে আল্লাহ যেন আমাকে চিরদিনের জন্য এই সন্তানের মুখ দেখা থেকে বঞ্চিত করেন। একজন বাবা হিসেবে এর চেয়ে আর কী বলতে পারি আমি!’
এভাবেই কারাগার থেকে সাধারণ মানুষের কাছে নিজের আকুতি জানিয়েছেন পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফাইল আহমদ।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের বর্তমান এই চেয়ারম্যান দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে রামুর আলোচিত ‘বৌদ্ধ বিহার সহিংসতা’ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
কারাগারে থেকেই তিনি এবারও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ‘মোটর সাইকেল’ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন।
কারাগার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাবাসীকে ‘টিস্যু পেপারে’ লেখা ওই ‘খোলা চিঠি’তে তোফাইল আহমদ নিজেকে রামু বৌদ্ধ বিহারে সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ দাবি করেছেন।
তিনি এতে নাইক্ষ্যছড়িবাসীকে বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই ভালোভাবে জানেন, আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। যে সকল মামলায় জেলখানায় অসহনীয় যন্ত্রণায় বন্দি জীবন কাটাচ্ছি, তা সব মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রামু বৌদ্ধ মন্দিরে ভাঙচুর, অস্ত্র মামলা, হত্যা মামলাসহ যে সকল মামলায় আসামি করা হয়েছে তার সঙ্গে আমার দূরতম সম্পর্ক নেই, ছিলও না।’
আগামী ২৩ মার্চ এই উপজেলা পরিষদে নির্বাচন হবে। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাবাসীর উদ্দেশে তোফাইল আহমদ লিখেছেন, ‘আমি ধ্বংসের নই, আমি সৃষ্টির। আমি কোন গোষ্ঠীর নই, আমি সকলের। আমি সন্ত্রাসের নই, আমি শান্তির। আমি জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী নই, নই সাম্প্রদায়িকতাতেও। আমি অন্তরমুখী নই, আমি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন একজন।’
তার দাবি, ‘আমি কোন অন্যায় করিনি। দুর্নীতি করিনি। আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত নই। আপনাদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলিনি।’
আকুতি জানিয়ে তোফায়েল বলেন, ‘একজন উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েও আমার একটা নিজস্ব বসতঘর নেই। অন্যের বাড়িতে আশ্রয় থাকি। নিজেকে অপরাধী বলে মনে হয়, যখন আমার মেয়ে তাসফি ও ছেলে তাসিন বলে- ‘আমাদের বাড়ি কোনটা?’
পার্বত্য বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ঘুরে দেখা গেছে, কারাবন্দি তোফাইল আহমদের ছোট্ট দুই শিশু সন্তান ৮ বছর বয়সী সানসাবিল আহমদ তাসফি ও ৩ বছর বয়সী তাসিন বাবার ওই ‘খোলা চিঠি’ ও ভোট চেয়ে লিফলেট মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
তাদের সঙ্গে প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে ঘুরছেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি সাচিং প্রু জেরি, নবনির্বাচিত লামা ও আলীকদম উপজেলার দুই চেয়ারম্যানসহ জামায়াত ও ১৯ দলের নেতাকর্মীরা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম কোম্পানি জানিয়েছেন, সকল দলের, সকল মতের মানুষ তোফাইলের নির্বাচিত প্রচারণায় নিজেদের ইচ্ছায় অংশ নিচ্ছেন। কেউ কাউকে ডাকছে না, শুধু ভালোবাসার টানে পাহাড়ি-বাঙালি এক হয়ে কাজ করছেন।
তিনি দাবি করেন, এখন দুজন উপজেলা চেয়ারম্যান কারাবন্দি তোফাইলের হয়ে মাঠে নেমেছেন। শিগগিরিই মাঠে নামবেন আরও ৫ উপজেলা চেয়ারম্যান।
কারাবন্দি তোফাইল আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জেসমিন সাংবাদিকদের জানান, সরকারি দলের একটি গোষ্ঠীর রোষানলে পড়ে তার স্বামী কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি জানান, টিস্যু পেপারে কোন রকমে নাইক্ষ্যংছড়িবাসীদের উদ্দেশে তার স্বামী ওই খোলা চিঠিতে নিজের সম্পর্কে নিখেছেন।
বাবার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট চাওয়া ছোট্ট শিশু সালসাবিল আহমদ তাসফি জানায়, সে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাবার জন্য ভোট চেয়ে এলাকায় এলাকায় যাচ্ছে। বাবার মুক্তির জন্য ভোট চাইছে। তার বিশ্বাস, ভোটে জিতলে তার বাবা মুক্তি পাবেন!
নাইক্ষ্যংছড়িতে চেয়ারম্যান পদে দুজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
rtnn