হাসান মাহমুদ: বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের আলোচনার বহুল প্রত্যাশিত তিস্তার পানি চুক্তি এখন পর্যন্ত না হওয়ায় উওরের ৩৫ টি উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক কৃষক হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষি চাষাবাদ নিয়ে। আওয়ামীলীগ সরকার ২য় বার ক্ষমতায় এসেও তীরে তরী ডুবে গিয়ে আশার সমাধি ঘটবে-এমনটি ভাবতেই পারেনি এ অঞ্চলের কৃষকেরা। তিস্তার পানি চুক্তি না হওয়ায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের ভবিষ্যত অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ খর¯্রােতা তিস্তা সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি হয়ে বাংলাদেশের লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীর ভিতর দিয়ে ১২৪ কিলোমিটার অতিক্রম করে ব্রক্ষাপুত্র নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। ১৯৭৯ সালের ১২ই ডিসেম্বর লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় তিস্তা নদীর উপর ১৫ শত কোটি টাকা ব্যয়ে সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের নিমার্ণ কাজ শুরু হয়। রংপুর বিভাগের ৮ টি জেলার ৩৫ টি উপজেলার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমি ইরি এবং বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধার আওতায় আনার র্পূণ পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। কিন্তু তিস্তা ব্যারেজের মাত্র ৯০ কিলোমিটার উজানে ভারতের গজলডোবায় ওই নদীর উপর একটি বাধঁ নির্মাণ করে সেখানে ভারতের সুবিধা মতো পানি আটকে দেওয়া হয়। তাতে করে পানির অভাবে প্রকল্পটি’র উদ্দেশ্য বাধাঁ গ্রস্থ হয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাত্র ৬৫ হাজার হেক্টর জমি সেচ প্রকল্পের আওতায় এনে প্রাথমিক ভাবে ১ম পর্যায়ে কার্যত্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে ১ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমি সেচ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার হেক্টর জমি সেচের অভাবে ইরি, বোরো মৌসুমে পড়ে থাকে। বিষয় গুলো নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কয়েকবার উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। সর্বশেষ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গেলে বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে কিন্তু সেই সফরেও তিস্তার পানি চুক্তির কোন শুভ সংবাদ আনতে পারে নাই। এতে উওরের প্রায় অর্ধ কোটি মানুষের আশার তরী ডুবে গিয়ে মন ভেঙ্গে চৌচির হয়ে যায়। বর্তমান সরকার ২য় বার ক্ষমতায় এসেও তিস্তার পানি চুক্তি না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষজন অনেকটা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের মানুষ চরমভাবে র্মমাহত হয়েছে। তিস্তা ব্যারেজের সেচ সুবিধাভোগী কৃষক আলী আশরাফ, মোবারক হোসেন, রফিকুল ইসলামসহ অনেক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে দৈনিক মানব কন্ঠ’কে বলেন, তিস্তার পানি চুক্তি না হলে এ সেচ প্রকল্পটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তিস্তার বুকে জেগে উঠেছে ধু ধু বালু চর। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এ অঞ্চলের লাখ লাখ কৃষক। তিস্তার পানিতে আমাদের হিস্যা আছে। কেন আমরা তা পাবো না। এজন্য ভারতের প্রতি সরকারের আন্তজার্তিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। সুত্র মতে, খসড়া চুক্তি অনুয়ায়ী ভারতের শিলিগুড়ি হতে ২৫ কিলোমিটার দুরে ভারতের গজলডোবা পয়েন্টে তিস্তার প্রবাহিত পানি পরিমান হিসাব করে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পানি বন্টন হওয়ার কথা ছিল। ৪৬০ কিউসেক হারে পানির স্থিত সঞ্চয় রেখে অবশিষ্ট পানি ৫২ শতাংশ নেবে ভারত আর বাকি ৪৮ শতাংশ নেবে বাংলাদেশ । নদী ও চর জীবন নাগরিক জোটের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী আখতার গোলাম কিবরিয়া দৈনিক মানব কন্ঠ’কে জানান, বর্তমান সরকারের ২য় মেয়াদেও যদি তিস্তার পানি চুক্তি না হয়, তাহলে একদিকে যেমন এ চুক্তি ভবিষ্যতে নিয়ে সংশয় হয়েছে। অন্যদিকে এর প্রভাব পড়বে ভোটের রাজনীতি। এতে বর্তমান সরকারই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দোয়ানী-ডালিয়া’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান দৈনিক মানব কন্ঠ’কে জানান, তিস্তার পানি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের উওর অঞ্চলের আর্থ সামাজিক অবস্থার পরির্বতন ঘটানো সম্ভব হত। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রা হতো, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পরিমাণ মতো পানি পাওয়া যেত। তিস্তা নদীর আশপাশের নদীগুলোতে র্সাবণিক পানি পাওয়ায় কৃষকরা খুব সহজইে ও কম খরচে সচে সুবিধা পেতো। ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বেড়ে যেত অনেক বেশি। নাম প্রকাশ না করা র্শতে পানি উন্নয়ন র্বোডের অপর এক র্কমর্কতা জানান, তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি না হওয়ায় এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চুক্তি না হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা ব্যারেজ হয়ে থাকবে জীবিত লাশের সামিল। তবে এ অঞ্চলের মানুষ আশা করেছিলো তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদনে পশ্চিমবঙ্গরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যার্নাজি গুরুত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করবেন। কিন্তু তার দেশপ্রেমরে কারণে শেষ র্পযন্ত বেঁকে যাওয়ায মনমোহন সিংহের বহুল প্রতীতি সফরে তিস্তা চুক্তি না হওয়ায়- ডুবে যেতে বসেছে প্রায় অর্ধ কোটি মানুষরে আশার তরী।