ঢাকা: জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এ সময় সমবেত লোকের সংখ্যা দুই লাখ ৫৪ হাজার ৬৮১ জন ছড়িয়ে যায়। আশপাশ মিলিয়ে উপস্থিতির সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রম করে।১১টা ২০ মিনিটে লাখো কণ্ঠে বেজে ওঠে প্রাণপ্রিয় জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’।কেবল প্যারেড গ্রাউন্ডই নয় সরাদেশে যে যেখানে ছিলেন রেলে-বাসে সেখানেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করার জন্য দাঁড়িয়ে যান।দৃশ্যত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গোটা দেশকে এককাতারে আনা সম্ভব হলো।সকাল থেকেই ঢল নামে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় প্যারেড ময়দানে।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন, ফারজানা ব্রাউনিয়া এবং চঞ্চল চৌধুরী। জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মিলিয়ে ইতিহাসের অংশ হতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশেপ্রেমিক লাখো জনতা। বেলা সকাল থেকেই বাংলাদেশের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে গোটা প্যারেড গ্রাউন্ডকে উদ্দীপ্ত করে রাখেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০টায় প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছেন।প্ রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। এরআগে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে যে যেখানে আছেন সেখানে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট সময়ে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ব্যতিক্রমধর্মী এ কর্মসূচিতে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই সময়ে দাঁড়িয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে সমবেত লোকের সংখ্যা দুই লাখ ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তখনও দলে দলে লোক প্যারেড গ্রাউন্ডমুখি হচ্ছিলেন।সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি আসার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাগত ভাষণ দেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, যে জাতীয় সঙ্গীত আমাদের উজ্জীবিত করে সেই সঙ্গীত পরিবেশন করে আজ আমরা বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছি।তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এই দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবো। প্রধানমন্ত্রী প্যারেড গ্রাউন্ডের বাইরে সবাইকে এই আয়োজনে যার যার অবস্থান থেকে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান।বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় প্যারেড মাঠের ফটক খুলে দেয়ার আগেই নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে পায়ে হেঁটে বাইরে জড়ো হতে থাকে নানা বয়সী নারী, পুরুষ, কিশোর।বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, পোশাক ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের কর্মীসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ প্যারেড মাঠে উপস্থিত হতে থাকেন জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলাতে।২০১৩ সালের ৬ মে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনেজ বুকে স্থান করে নিয়েছিল ভারত। দেশটির সাহারা পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ জন অংশ নিয়েছিলেন। বুধবার জাতীয় প্যারেড ময়দানের জমায়েত সকাল ৮টা ২৩ মিনিটেই ওই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায়। সাড়ে ৮টার দিকে মাঠে লোকসংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।জাতীয় সঙ্গীত গাইতে আসা মানুষদের গুনে গুনে মাঠে প্রবেশ করতে দেয়া হয়। শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে মাঠের ওই অংশটি ভাগ করা হয় ১৫টি সেক্টরে।সেখানে প্রত্যেককে একটি করে ক্যাপ ও ব্যাগ দেয়া হয়। এই ব্যাগে জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত ও নিয়মাবলী লেখা সংবলিত একটি কার্ড, পানি, জুস, স্যালাইনসহ তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ওষুধ দেয়া হয়।প্রতিটি সেক্টরেই একটি করে বড় স্ক্রিনে জানিয়ে দেয়া হয় মাঠের পরিস্থিতি ও লোকের সংখ্যা। অনেকেই মাঠে আসেন গায়ে পতাকা জড়িয়ে, মাথায় পতাকার রঙের ব্যান্ডানা পরে।বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কণ্ঠ মেলান জাতীয় সংগীতে। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।মূল পর্বের আগে সকাল ৮টা থেকে শিল্পকলা একাডেমীর পরিবেশনায় দেশবরেণ্য এবং খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে মাঠে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানের সার্বিক দায়িত্বে ছিল সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।