নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মৃত এক নিরাপত্তা প্রহরীর মৃত্যকালীন সরকারী পাওনা টাকা তুলতে তার স্ত্রীকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। আর এ ঘুষের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের অফিস সহকারী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ মতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী মোজাম্মেল হক গত তিন মাস আগে চাকুরীরত অবস্থায় হ্নদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী , দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রেখে যান। এদিকে মৃত্যু স্বামীর লাম গ্রান্ট, গ্রাচুইটি ও পেনশনের টাকা উত্তোলনের জন্য স্ত্রী মর্জিনা বেগম তার সন্তানদের নিয়ে অফিসে গেলে ওই অফিসের অফিস সহকারী রবিউল ইসলাম টাকা পেতে ঝামেলা আছে , টাকার জন্যে ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হবে সহ নানা অযুহাত দেখাতে থাকেন। পরে রবিউল ইসলাম মর্জিনা বেগমেকে আলাদা ডেকে নিয়ে তার নিকট বিভিন্ন খরচ বাবদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাবী করেন। এই টাকা দিলে স্বামীর সব টাকা তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে বলে মর্জিনাকে জানানো হয়। এক সঙ্গে এতো টাকা দিতে অপারগতা জানালে মর্জিনাকে বলা হয় তার নিজের এ্যাকাউন্টে স্বামীর পাওনা টাকা জমা হওয়ার পর দিলে হবে। এতে মর্জিনা রাজি হলে এ বছরের মার্চ মাসের শুরুতে মৃত মোজাম্মেলের লাম গ্রান্ট এর টাকা মর্জিনার সোনালী ব্যাংক কিশোরগজ্ঞ শাখার একাউন্টে জমা করে দেয়া হয়। টাকা জমা হওয়ার পর মর্জিনাকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে রবিউল ইসলাম তার আত্মীর চাঁদ প্রফেসরের বাড়ীতে নিয়ে যান। সেখানে একটি চেকের পাতায় মর্জিনার স্বাক্ষর নেন রবিউল ইসলাম। ওই চেকের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা হওয়া লাম গ্রান্টের এক লাখ ৭০ হাজার উত্তোলন করা হয়। উত্তোলনকৃত টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা মর্জিনাকে দিয়ে বাকী টাক নিজে রেখে দেন রবিউল ইসলাম। পরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা অফিস সহকারী কেটে নেয়ার বিষয়টি মর্জিনা তার পরিবারের অন্য সদস্যদের জানালে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। এব্যাপারে মর্জিনার সন্তানরা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ করেছেন। মর্জিনা এক লাখ বিশ হাজার টাকা অফিস সহকারীকে ঘুষ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন ঘুষ না দিলে তার মৃত স্বামীর পাওনা টাকা দ্রুত তুলতে পারতাম না।
এ ব্যাপারে অফিস সহকারী রবিউল ইসলাম ঘুষ নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন মর্জিনাকে স্বামীর টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করায় সে খুশি হয়ে কিছু আমাকে টাকা দেন। কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা আমিরুল ইসলাম জানান মৃত মোজাম্মেল হকের পাওনাদি উত্তোলনে জন্য ঘুষ নেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। যদি ঘটনাটি সত্য হয় তাহলে অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।