সিসি নিউজ: বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক অজয় রায় বলেছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বর্তমানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করছে একটি মহল।
রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী আয়োজিত সান্ধ্য কোর্স ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিকীকরণ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সান্ধ্য কোর্স ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যিকীকরণ করার কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান নষ্ট হয়ে যাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কৌশলপত্র প্রসঙ্গে ফজলুল হক বাদশা বলেন, ‘মঞ্জুরি কমিশনের এই কৌশলপত্রকে আমি অবৈধ মনে করি। এর বিরুদ্ধে যদি আইনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে সেটা বাতিল হয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে আমাদের ওপর দায়টা একটু বেশিই আসে। আমরা কখনো সান্ধ্য কোর্স ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের পক্ষে নই। সব সময় সাধারণ ছাত্রদের কথা চিন্তা করি আমরা এবং তাদের সব যৌক্তিক দাবি পূরণের জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে থাকি।’
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা আরো বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০ বছর মেয়াদি উচ্চশিক্ষা সংস্কার কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে। যার মূল কথা হচ্ছে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্রমাগত সরকারি বরাদ্দ কমাও এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াও।’
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে সান্ধ্য কোর্স চালুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কর্মসূচির ওপর পুলিশের গুলি চালানোর নিন্দা করে জাসদ-সমর্থিত ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘সামরিক ও স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলেও ছাত্ররা প্রগতিশীল আন্দোলনের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে ছাত্ররা এমন আন্দোলন করলে আমাদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।’
বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসুর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ তালুকদার, সংসদ সদস্য ফজলুল হক বাদশা, ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি নান্টুসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।